ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

চার বছর ধরে সঞ্চয়পত্রে ঋণ পাচ্ছে না সরকার, বাড়ছে ব্যাংকনির্ভরতা

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও টানা চার বছর ধরে এ খাত থেকে নিট ঋণ পাচ্ছে না সরকার। বরং নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বেশি অর্থ সুদ ও আসল হিসেবে গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সঞ্চয়পত্রে যত বিনিয়োগ এসেছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে এ সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়েছে ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ৮ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, চলতি অর্থবছর শেষেও সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মকই থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ বিনিয়োগ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। জাহিদ হোসেন বলেন, গত চার বছরের বেশি সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে মানুষের আয় দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, সঞ্চয় করার সুযোগ কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কারণ এসব খাতে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা নেই এবং মুনাফার ওপর করও দিতে হয় না। মাত্র ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলেও প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।

সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। গত কয়েক অর্থবছর ধরেই এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অথচ ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং বিকল্প বিনিয়োগমাধ্যমের প্রতি ঝোঁক বাড়া দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

চার বছর ধরে সঞ্চয়পত্রে ঋণ পাচ্ছে না সরকার, বাড়ছে ব্যাংকনির্ভরতা

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও টানা চার বছর ধরে এ খাত থেকে নিট ঋণ পাচ্ছে না সরকার। বরং নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বেশি অর্থ সুদ ও আসল হিসেবে গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সঞ্চয়পত্রে যত বিনিয়োগ এসেছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে এ সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়েছে ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ৮ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, চলতি অর্থবছর শেষেও সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মকই থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ বিনিয়োগ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। জাহিদ হোসেন বলেন, গত চার বছরের বেশি সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে মানুষের আয় দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, সঞ্চয় করার সুযোগ কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কারণ এসব খাতে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা নেই এবং মুনাফার ওপর করও দিতে হয় না। মাত্র ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলেও প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।

সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। গত কয়েক অর্থবছর ধরেই এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অথচ ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং বিকল্প বিনিয়োগমাধ্যমের প্রতি ঝোঁক বাড়া দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।