ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দেশব্যাপী শতভাগ টিকাদানের পরও লাগামহীন হামের সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যু

দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রমণ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার শিশু নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চরম ভাবিয়ে তুলেছে।

দেশব্যাপী হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান কর্মসূচি চালু করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১২ এপ্রিল ৪টি সিটি কর্পোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে সর্বাত্মক টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরকারি বিশেষ এই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্থাৎ ১০১ শতাংশ শিশুকে সফলভাবে টিকা প্রদান করা হলেও প্রতিদিন হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি নতুন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের প্রতিষেধক বা টিকা দেওয়ার পর মানবশরীরে এর কার্যকারিতা বা রোগ প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হয়। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন যে বিশেষ সরকারি উদ্যোগের ফলে আক্রান্তের হার কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে অন্য এক চিত্র ফুটে ওঠে। দেশব্যাপী এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায়, অর্থাৎ গত ২৭ এপ্রিল লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ টিকা কাভারেজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১ শতাংশ বেশি টিকা প্রদান করা হয়। কিন্তু এই গণটিকাদানের তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরও প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি রোগী আক্রান্ত হচ্ছে, যেখানে দেশব্যাপী বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৫১ জন শিশু আক্রান্ত হতো। টিকাদান শুরুর এক মাস পরও আক্রান্তের গ্রাফ উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে না নামায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টিকার মাঠপর্যায়ের পূর্ণ কার্যকারিতা ও সঠিক ফলাফল বোঝার জন্য আরও কিছুদিন সময় নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। এরপরও যদি আক্রান্তের হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে বর্তমান ভাইরাসটির জিনগত রূপ বা ধরন বুঝতে ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ নিয়ে নতুন করে ল্যাবরেটরিতে কাজ শুরু করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এই বিষয়ে বলেন যে বিগত সময়ের মতো এবার নিখুঁতভাবে মাইক্রোপ্ল্যান করে প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। যে কারণে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জিত হলেও মাঠপর্যায়ে অনেক শিশু রয়ে গেছে, যারা আসলে টিকা পাওয়ার উপযুক্ত ছিল কিন্তু কোনো না কোনোভাবে বাদ পড়ে গেছে। আরেকটি প্রধান বিষয় হলো হাম এবার সম্পূর্ণ নতুন নতুন এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। এটি যদি নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস্টারে সীমাবদ্ধ থাকত তবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমটি ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ অর্থাৎ আক্রান্ত এলাকার চারপাশকে বিশেষ কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত না করায় প্রতিনিয়ত সংক্রমণ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়াচ্ছে।

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে আক্রান্তের হার আরও মারাত্মকভাবে বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে দূরপাল্লার ভ্রমণ না করাই সবচেয়ে উত্তম হবে। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা অন্য সুস্থ শিশুরাও চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী জানান বর্তমানে বিশেষ কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের শরীরে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কাজ করে থাকে।

এদিকে দেশজুড়ে হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে আরও ৫টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে দুটি ঢাকা বিভাগে, একটি চট্টগ্রাম বিভাগে এবং বাকি দুটি সিলেট বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শুধু হামের উপসর্গে দেশে ৩৮৯টি শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে ল্যাবরেটরি টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৮৯ জন শিশু। সব মিলিয়ে এই অল্প সময়ের মধ্যে দেশে মোট ৪৭৮ জন নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এই দেড় মাসে হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৫৪ হাজার ৯১১ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জন শিশুর শরীরে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, হিজবুল্লাহর পাল্টা আঘাতের দাবি

দেশব্যাপী শতভাগ টিকাদানের পরও লাগামহীন হামের সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রমণ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার শিশু নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চরম ভাবিয়ে তুলেছে।

দেশব্যাপী হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান কর্মসূচি চালু করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১২ এপ্রিল ৪টি সিটি কর্পোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে সর্বাত্মক টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরকারি বিশেষ এই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্থাৎ ১০১ শতাংশ শিশুকে সফলভাবে টিকা প্রদান করা হলেও প্রতিদিন হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি নতুন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের প্রতিষেধক বা টিকা দেওয়ার পর মানবশরীরে এর কার্যকারিতা বা রোগ প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হয়। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন যে বিশেষ সরকারি উদ্যোগের ফলে আক্রান্তের হার কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে অন্য এক চিত্র ফুটে ওঠে। দেশব্যাপী এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায়, অর্থাৎ গত ২৭ এপ্রিল লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ টিকা কাভারেজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১ শতাংশ বেশি টিকা প্রদান করা হয়। কিন্তু এই গণটিকাদানের তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরও প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি রোগী আক্রান্ত হচ্ছে, যেখানে দেশব্যাপী বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৫১ জন শিশু আক্রান্ত হতো। টিকাদান শুরুর এক মাস পরও আক্রান্তের গ্রাফ উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে না নামায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টিকার মাঠপর্যায়ের পূর্ণ কার্যকারিতা ও সঠিক ফলাফল বোঝার জন্য আরও কিছুদিন সময় নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। এরপরও যদি আক্রান্তের হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে বর্তমান ভাইরাসটির জিনগত রূপ বা ধরন বুঝতে ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ নিয়ে নতুন করে ল্যাবরেটরিতে কাজ শুরু করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এই বিষয়ে বলেন যে বিগত সময়ের মতো এবার নিখুঁতভাবে মাইক্রোপ্ল্যান করে প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। যে কারণে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জিত হলেও মাঠপর্যায়ে অনেক শিশু রয়ে গেছে, যারা আসলে টিকা পাওয়ার উপযুক্ত ছিল কিন্তু কোনো না কোনোভাবে বাদ পড়ে গেছে। আরেকটি প্রধান বিষয় হলো হাম এবার সম্পূর্ণ নতুন নতুন এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। এটি যদি নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস্টারে সীমাবদ্ধ থাকত তবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমটি ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ অর্থাৎ আক্রান্ত এলাকার চারপাশকে বিশেষ কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত না করায় প্রতিনিয়ত সংক্রমণ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়াচ্ছে।

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে আক্রান্তের হার আরও মারাত্মকভাবে বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে দূরপাল্লার ভ্রমণ না করাই সবচেয়ে উত্তম হবে। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা অন্য সুস্থ শিশুরাও চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী জানান বর্তমানে বিশেষ কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের শরীরে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কাজ করে থাকে।

এদিকে দেশজুড়ে হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে আরও ৫টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে দুটি ঢাকা বিভাগে, একটি চট্টগ্রাম বিভাগে এবং বাকি দুটি সিলেট বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শুধু হামের উপসর্গে দেশে ৩৮৯টি শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে ল্যাবরেটরি টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৮৯ জন শিশু। সব মিলিয়ে এই অল্প সময়ের মধ্যে দেশে মোট ৪৭৮ জন নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এই দেড় মাসে হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৫৪ হাজার ৯১১ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জন শিশুর শরীরে।