ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কঠোর নির্দেশ

রাজধানীর বেইলি রোডে এডিপি পর্যালোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে সব ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল আর্থিক বরাদ্দ প্রদান বা নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হয় না, বরং এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমানের বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুলত্রুটি বা হিসাব সামনে এনে এখন আর কোনো লাভ হবে না। একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি কিংবা অহেতুক দোষারোপ করে পার্বত্য অঞ্চলে প্রকৃত উন্নয়ন আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, কাজের গতি এবং উদ্দীপনা বা স্পিরিট পুরোপুরি বজায় রেখে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রতিটি উন্নয়ন খাতে কঠোর নজরদারি বা মনিটরিং নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, সব কর্মকর্তাকে নিজ নিজ জায়গা থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

পার্বত্য অঞ্চলে কাজের গতি বাড়াতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জেলা পরিষদগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু বড় বড় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, বরং এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল নিশ্চিত করতে হবে। এদিনের সভায় আরও জানানো হয় যে, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য ৮৭২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এ সময় বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইহাজারে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে এসআইকে ক্লোজড, পুলিশ লাইনে সংযুক্ত

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কঠোর নির্দেশ

আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

রাজধানীর বেইলি রোডে এডিপি পর্যালোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে সব ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল আর্থিক বরাদ্দ প্রদান বা নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হয় না, বরং এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমানের বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুলত্রুটি বা হিসাব সামনে এনে এখন আর কোনো লাভ হবে না। একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি কিংবা অহেতুক দোষারোপ করে পার্বত্য অঞ্চলে প্রকৃত উন্নয়ন আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, কাজের গতি এবং উদ্দীপনা বা স্পিরিট পুরোপুরি বজায় রেখে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রতিটি উন্নয়ন খাতে কঠোর নজরদারি বা মনিটরিং নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, সব কর্মকর্তাকে নিজ নিজ জায়গা থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

পার্বত্য অঞ্চলে কাজের গতি বাড়াতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জেলা পরিষদগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু বড় বড় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, বরং এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল নিশ্চিত করতে হবে। এদিনের সভায় আরও জানানো হয় যে, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য ৮৭২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এ সময় বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।