সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ বাতিল এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়ায় বিচার ব্যবস্থায় একটি অস্বাভাবিক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল আইন বা কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য বিচারকদের নিজস্ব মানসিক শক্তি এবং নৈতিক সাহসের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে আসা চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতা বিচারকদের থাকতে হবে।
সেমিনারে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরা মন্তব্য করেন যে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রাথমিক শর্তই হলো একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা। রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব থেকে আদালতকে মুক্ত রাখা জরুরি, কারণ সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো বিচারালয়। অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একটি কার্যকর বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে হলে সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং আইনি জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























