স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত থাকলেও বিভিন্ন দল থেকে অলরেডি মনোনয়ন ঘোষণার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যদি স্বতন্ত্র হতো— দলের মালিকানা থাকতো না, দলে দলে গোলামাল হতো না।”
এক অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো ধরনের নির্বাচন করা সম্ভব না। দলগুলোর সহযোগিতা ১৬ আনা দরকার।”
রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে একটা ফয়সালায় আসার অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, “আমরা রক্তপাতহীন একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখতে চাই। অতীতে দেখা গেছে অনেক মার্ডার হয়। এটা মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া করা উচিত।”
নির্বাচন কমিশন দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কোনো একবারের বিষয় নয়, বরং সভ্য দেশগুলোর মতো একটি সুন্দর নির্বাচনি সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন দেশে। এই লক্ষ্যে শতভাগ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাই।” একই সঙ্গে ভোটার, এজেন্ট ও সাংবাদিকদের আরও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কমিশন করবে।
ভোটার তালিকা তৈরির জটিলতা নিয়ে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিইসি বলেন, “কিছু নারী ভোটার চেহারা না দেখিয়ে বোরকা পরা অবস্থায় ভোটার হওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন। তাদের নারী কর্মী দিয়ে ছবি তোলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা রাজি হননি। এই ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুন্দর ও ভালোভাবে করার জন্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না, তাই নির্বাচন পরিচালনা বিধি বদলাতে হচ্ছে। আচরণ বিধিতে কিছু গোলমাল হয়ে গেছে, সেগুলো প্রয়োগ করা সম্ভব না। সেগুলো বদলাতে হবে। আমরা কাজ করছি। সরকারেরও প্রস্তুতির দরকার।”
রিপোর্টারের নাম 
























