ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বাবার চোখ অন্ধ করার দায়ে ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক কলহের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে বাবার চোখ অন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে সাজার পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা দেওয়া হয়। হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তাকেও খালাস দেওয়া হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি বাদলের পূর্বের হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে।

ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুরে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান যে তার বাবা টাকা চাইছেন। এরপর বাদল নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন।

আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সাক্ষীরা জানান, এরপর বাদল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিক্যাল সনদ এবং নয় জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

বাবার চোখ অন্ধ করার দায়ে ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক কলহের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে বাবার চোখ অন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে সাজার পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা দেওয়া হয়। হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তাকেও খালাস দেওয়া হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি বাদলের পূর্বের হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে।

ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুরে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান যে তার বাবা টাকা চাইছেন। এরপর বাদল নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন।

আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সাক্ষীরা জানান, এরপর বাদল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিক্যাল সনদ এবং নয় জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।