সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কার্যক্রমে অনিয়ম, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকার এবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক তদারকি জোরদার করার অংশ হিসেবে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মায়েদের সম্পৃক্ত করে পাঁচ সদস্যের ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা বনরুটি, পচা ডিম ও ছোট আকারের নিম্নমানের কলা বিতরণের অভিযোগ প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় এবং এই জরুরি সভার আয়োজন করে। সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা মানহীনতা সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিচালনায় পাঁচ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। পণ্য সরবরাহকারী চালক অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি হবেন এবং সরবরাহের সময় পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক থাকবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। কোনো অবস্থাতেই সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপ-ঠিকাদারি দেওয়া যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। এছাড়া, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিপিইও) প্রতি মাসে অন্তত দুইবার আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় পর্যায়ে গঠিত গার্ডিয়ান কমিটিতে প্রধান শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে থাকবেন। এই কমিটি শিক্ষার্থীদের খাদ্যের মান, নিরাপত্তা ও সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন প্রতিমন্ত্রী।
রিপোর্টারের নাম 
























