রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি স্থানীয়করণ ও প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে এই বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং ইকুইটি জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইকুইটিবিডি)’ আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রতি বছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য যে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) গ্রহণ করা হয়, তাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ৯ শতাংশ তহবিল পেলেও স্থানীয় এনজিওগুলো ১ শতাংশের কম তহবিল পায়। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সরকারকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিসিএনএফ ও ইকুইটিবিডির প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী মোস্তাফা কামাল আকন্দ ও মো. ইকবাল উদ্দিন এবং সিসিএনএফের সমন্বয়ক মো. শাহিনুর ইসলাম।
মূল প্রবন্ধে মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, জেআরপি মূলত জাতিসংঘ-নির্ভর একটি তহবিল সংগ্রহের ব্যবস্থা। গত বছরের জেআরপির মোট ৯৩৪.৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৮৭ শতাংশ তহবিল জাতিসংঘের কাছে এবং ৯ শতাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ছিল, যেখানে স্থানীয় এনজিওর অংশ ছিল ১ শতাংশেরও কম।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হলেও রোহিঙ্গা সংকটে ব্যাপক আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু এই অবদান জেআরপি কাঠামোয় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
মো. শাহিনুর ইসলাম জেআরপি তহবিলের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বাস্তবায়নের দাবি জানান। এর পাশাপাশি, তহবিল বণ্টনের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জেআরপিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব নিতে হবে এবং এ লক্ষ্যে একটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন করা জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 
























