জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে ফেলে পালিয়ে যায়, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, মতভেদ থাকলেও আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সবাই ঐক্যবদ্ধ এবং এ দেশে আর কখনও আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে এক পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির এই নেতা এসব কথা বলেন।
দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের কোনো বেগমপাড়ায় বাড়ি বা গাড়ি নেই। আমাদের মুরুব্বিদের অনেকেরই বেগমপাড়ায় বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। তাদের সন্তানরা বিদেশে পড়ালেখা করে, চিকিৎসা নিতে বিদেশে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষ দেশে চিকিৎসা নিলেও কিছু অসাধারণ মানুষ কেন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়? তিনি এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে পাল্টানোর আহ্বান জানান।
তিনি বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এ দেশের যুবসমাজকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি প্রত্যেকটি সেক্টরে মেধাবীদের স্থান করে দিতে হবে এবং প্রাইভেট সেক্টরে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এসএমই সেক্টরকে আরও গতিশীল করতে হবে। এই দাবিগুলো আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে আমাদের সন্তানদের বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করতে না হয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, আমরা এখন বিরোধী দলে আছি। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ পদোন্নতি পাওয়ার আশায় নেতাকর্মীদের মারধর করবে, হয়রানি করবে—এটা পুলিশের দোষ নয়। পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনীতিবিদরা পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বিরোধী দলকে হয়রানি করে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখার অপরাধে গ্রেফতার হতে হয়েছিল, বর্তমান সরকারের সময়েও একই ঘটনা ঘটছে। তিনি এমন বাংলাদেশ চান না এবং দেশটাকে আরও পাল্টানোর কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























