কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে চার বছর ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালো মানিক’। এই সুঠাম দেহের ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ বা ১ হাজার ৩১২ কেজি, এবং এর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা।
নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের কান্দি গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও জায়েদা খাতুন দম্পতি পরম যত্নে ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের এই ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন। তাদের বাড়িতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কালো মানিককে একনজর দেখতে ভিড় করছেন।
খামারি জায়েদা খাতুন জানান, কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা কৃত্রিম খাবার ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশি ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কালো মানিককে কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ঘাস, খড় ও কুঁড়াই এর নিত্যদিনের খাবার। তিনি বলেন, অনেকে দেখতে আসছেন, দামও বলছেন, কিন্তু ন্যায্য মূল্য না পেলে তারা এ বছর ষাঁড়টি বিক্রি করবেন না।
শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা এটিকে সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছেন। ৩৫ মণ ওজনের এই ষাঁড়ের প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৩১২ টাকা। ঢাকার একজন ক্রেতা ১১ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন, কিন্তু পরে আর যোগাযোগ করেননি। তিনি আশা করছেন, ভালো দাম পেলে এবার এটি বিক্রি করে দেবেন। দাম কিছুটা কমানোর সুযোগও রয়েছে। যদি বাড়ি থেকে বিক্রি না হয়, তাহলে আগামীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর হাটে বিক্রির জন্য তোলা হবে। তিনি চান হালাল টাকার মালিক ও সৎ ব্যক্তির কাছে এটি বিক্রি করতে, তাহলে তাদের কষ্ট সার্থক হবে।
ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া এই ষাঁড়টিকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গৃহপালিত এমন গরু যেন আরও বেশি করে বাড়িতে পালন করা যায়, সে ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে সহযোগিতা করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























