ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

প্রাক-বাজেট সংলাপে চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারি-বিরোধী দলের এমপির মধ্যে তুমুল বিতর্ক

রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় – এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রাক-বাজেট সংলাপে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, আইনগত ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাদের মধ্যে এই তর্কাতর্কি হয়।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দাবি করেন, রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। তিনি বলেন, শুধু কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

নিজের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি আসলে চাঁদাবাজির এলাকার এমপি। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। ‘ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। আগে আগের সরকারের লোকেরা করতো, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না’, বলেন তিনি। জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, কাওরান বাজারে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অতীতে সহিংস ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, কাওরান বাজারকে ঘিরে যুবদলের এক নেতা নিহত হয়েছিলেন। পুলিশ সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয় না। এ সময় তিনি জানান, চাঁদাবাজি বন্ধে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, কাওরান বাজার ও তেজগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে তিনি সরকারের সহযোগিতা চান।

তবে সাইফুল আলম খানের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি অভিযোগকে ‘ঢালাও বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন এমপি যদি বলেন তার এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, অথচ কারা করছে তা জানেন না – এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না। মাহমুদা হাবীবা আরও বলেন, আমার এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সে সরকারি দলের হোক বা অন্য দলের – আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়লার ভাগাড় থেকে মিঠুনের কোল, এবার বিয়ের পিঁড়িতে দিশানি

প্রাক-বাজেট সংলাপে চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারি-বিরোধী দলের এমপির মধ্যে তুমুল বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় – এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রাক-বাজেট সংলাপে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, আইনগত ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাদের মধ্যে এই তর্কাতর্কি হয়।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দাবি করেন, রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। তিনি বলেন, শুধু কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

নিজের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি আসলে চাঁদাবাজির এলাকার এমপি। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। ‘ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। আগে আগের সরকারের লোকেরা করতো, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না’, বলেন তিনি। জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, কাওরান বাজারে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অতীতে সহিংস ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, কাওরান বাজারকে ঘিরে যুবদলের এক নেতা নিহত হয়েছিলেন। পুলিশ সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয় না। এ সময় তিনি জানান, চাঁদাবাজি বন্ধে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, কাওরান বাজার ও তেজগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে তিনি সরকারের সহযোগিতা চান।

তবে সাইফুল আলম খানের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি অভিযোগকে ‘ঢালাও বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন এমপি যদি বলেন তার এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, অথচ কারা করছে তা জানেন না – এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না। মাহমুদা হাবীবা আরও বলেন, আমার এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সে সরকারি দলের হোক বা অন্য দলের – আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।