হবিগঞ্জের বাহুবলে পাঁচ গ্রামবাসীর মধ্যে দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে চারটি গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। নিহতরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের শেলু মিয়া (৪৫) এবং হেলাল মিয়া (২৫)। এই ঘটনার পর থেকে গ্রামগুলোর বাড়িঘরে নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন, এবং অনেক বাড়িঘরে তালা ঝুলছে। নীরব-নিস্তব্ধ হয়ে গেছে মহাসড়ক সংলগ্ন ডুবাঐ বাজার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আব্দাফৌজদা, খাসেরগাঁও, মুগকান্দি ও হারিছপুর গ্রামবাসীর মধ্যে একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পার্শ্ববর্তী খাসেরগাঁও, হারিছপুর ও মুগকান্দি গ্রামের লোকজন আব্দাফৌজদা গ্রামের পক্ষ নিলে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে আদিত্যপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর ছেলে শিলু মিয়া (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, হবিগঞ্জ থেকে সিলেট নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টায় একই গ্রামের গাবরু মিয়ার ছেলে হেলালের মৃত্যু হয়। বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকতার মিয়া জানিয়েছেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল রায় জানিয়েছেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রিপোর্টারের নাম 






















