ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

টিকার সংকট নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ, দাবি সংস্থাটির

বাংলাদেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, টিকার মজুদ সংকট, রোগ বিস্তার এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারকে দাপ্তরিকভাবে বারবার অবহিত করা হয়েছিল। ইউনিসেফ বাংলাদেশের এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-কে চিঠি দিয়ে দেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাম-রুবেলার এমআর৫ টিকার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং পোলিও, টিটেনাস-ডিপথেরিয়া ও বিসিজি টিকার মজুদও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকার টিকা সংগ্রহ করত। তবে ২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব বাজেটের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির মতে, এই পরিবর্তনের ফলে টিকা সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। ইউনিসেফ বলছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কিনতে সাধারণত আট থেকে ১১ মাস সময় লাগে এবং সময়মতো সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণেও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে মার্চে গিয়ে টিকার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৭৪ জন। এ পরিস্থিতিতে ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে, বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সহায়তায় গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে জাতীয় কর্মসূচিতে সম্প্রসারণ করা হয়। প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ১০ মে প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, হিজবুল্লাহর পাল্টা আঘাতের দাবি

টিকার সংকট নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ, দাবি সংস্থাটির

আপডেট সময় : ০১:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বাংলাদেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, টিকার মজুদ সংকট, রোগ বিস্তার এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারকে দাপ্তরিকভাবে বারবার অবহিত করা হয়েছিল। ইউনিসেফ বাংলাদেশের এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-কে চিঠি দিয়ে দেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাম-রুবেলার এমআর৫ টিকার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং পোলিও, টিটেনাস-ডিপথেরিয়া ও বিসিজি টিকার মজুদও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকার টিকা সংগ্রহ করত। তবে ২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব বাজেটের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির মতে, এই পরিবর্তনের ফলে টিকা সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। ইউনিসেফ বলছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে টিকা কিনতে সাধারণত আট থেকে ১১ মাস সময় লাগে এবং সময়মতো সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণেও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে মার্চে গিয়ে টিকার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৭৪ জন। এ পরিস্থিতিতে ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে, বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সহায়তায় গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে জাতীয় কর্মসূচিতে সম্প্রসারণ করা হয়। প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ১০ মে প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ।