ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

এআই ক্যামেরায় বদলাচ্ছে ঢাকার ট্রাফিক, বাড়ছে স্বয়ংক্রিয় মামলার নজরদারি

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ট্রাফিক সিগন্যালে এআইভিত্তিক পিটিজেড ক্যামেরা বসানোর পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের মতো ব্যস্ত মোড়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হতো, এখন সেখানে সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। আইন লঙ্ঘন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা দিচ্ছে পুলিশ। এ ভয়ে চালকেরা আগের মতো ঝুঁকি নিচ্ছেন না। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু করেছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করে ভিডিও ও ছবি সরাসরি ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের সার্ভারে পাঠানো হচ্ছে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে গাড়ির মালিক বা চালকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এআইভিত্তিক পিটিজেড ক্যামেরাগুলো ছয় ধরনের আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারছে। এর মধ্যে রয়েছে বাম লেইন দখল, অবৈধ লেইন পরিবর্তন, সিগন্যাল অমান্য, জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া, অবৈধ পার্কিং এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো। ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে চলমান যানবাহন পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং দূর থেকে স্পষ্টভাবে নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম। সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএ-এর সার্ভার যুক্ত থাকায় গাড়ির নম্বর দিয়েই মালিকের তথ্য বের করা যাচ্ছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি চালুর প্রথম আট দিনেই ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে চার শতাধিক মামলা প্রস্তুত করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে ছোটখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে গেলেও যানজট বা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এমন ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে রাজধানীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল পয়েন্টে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্পষ্ট বা মানহীন নম্বর প্লেট। অনেক গাড়িতে নির্ধারিত নম্বর প্লেট না থাকায় ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। এছাড়া অনেক গাড়ির আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর থাকাও নজরদারিতে জটিলতা তৈরি করছে। এ কারণে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ডিএমপি। বর্তমানে মামলার কপি ডাকযোগে পাঠানো হলেও ভবিষ্যতে মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএসের মাধ্যমে চালক বা মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে নোটিস পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও ভবিষ্যতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন, যা যাচাই করে মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে পুলিশ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈধ কার্ড ছাড়াই হলে থাকছেন ৩ ছাত্রদল কর্মী

এআই ক্যামেরায় বদলাচ্ছে ঢাকার ট্রাফিক, বাড়ছে স্বয়ংক্রিয় মামলার নজরদারি

আপডেট সময় : ০২:৩৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ট্রাফিক সিগন্যালে এআইভিত্তিক পিটিজেড ক্যামেরা বসানোর পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের মতো ব্যস্ত মোড়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হতো, এখন সেখানে সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। আইন লঙ্ঘন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা দিচ্ছে পুলিশ। এ ভয়ে চালকেরা আগের মতো ঝুঁকি নিচ্ছেন না। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু করেছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করে ভিডিও ও ছবি সরাসরি ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের সার্ভারে পাঠানো হচ্ছে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে গাড়ির মালিক বা চালকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এআইভিত্তিক পিটিজেড ক্যামেরাগুলো ছয় ধরনের আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারছে। এর মধ্যে রয়েছে বাম লেইন দখল, অবৈধ লেইন পরিবর্তন, সিগন্যাল অমান্য, জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া, অবৈধ পার্কিং এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো। ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে চলমান যানবাহন পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং দূর থেকে স্পষ্টভাবে নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম। সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএ-এর সার্ভার যুক্ত থাকায় গাড়ির নম্বর দিয়েই মালিকের তথ্য বের করা যাচ্ছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি চালুর প্রথম আট দিনেই ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে চার শতাধিক মামলা প্রস্তুত করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে ছোটখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে গেলেও যানজট বা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এমন ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে রাজধানীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল পয়েন্টে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্পষ্ট বা মানহীন নম্বর প্লেট। অনেক গাড়িতে নির্ধারিত নম্বর প্লেট না থাকায় ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। এছাড়া অনেক গাড়ির আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর থাকাও নজরদারিতে জটিলতা তৈরি করছে। এ কারণে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ডিএমপি। বর্তমানে মামলার কপি ডাকযোগে পাঠানো হলেও ভবিষ্যতে মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএসের মাধ্যমে চালক বা মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে নোটিস পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও ভবিষ্যতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন, যা যাচাই করে মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে পুলিশ।