বাংলাদেশের জেলা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচনগুলোতে ‘নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ, হয়রানি ও প্রার্থিতায় বাধা’ দেওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আইনি সংস্থা ‘দ্য ল সোসাইটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস’। এর আগে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সংস্থা ‘কাউন্সিল অব বার্স অ্যান্ড ল সোসাইটিজ অব ইউরোপ’ (সিসিবিই)-ও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিল। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের দুই লাখেরও বেশি সলিসিটরের প্রতিনিধিত্বকারী এই ব্রিটিশ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মার্ক ইভান্সের স্বাক্ষর করা চিঠিটি গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়।
চিঠিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বার নির্বাচনগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সেখানে চরম অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী এবং অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীরা শারীরিক হেনস্থারও শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়, যেখানে বিগত সরকারের বা ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ দিয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ল সোসাইটি স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনজীবীদের গায়ে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এভাবে প্রার্থিতা বাতিল বা বাধা দেওয়া জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপালস অন দ্য রোল অফ লয়ার্স’ বা আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ এবং ২৩ নম্বর নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি, যা আইনি পেশার স্বশাসন ও স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে খর্ব করে।
এই নজিরবিহীন হস্তক্ষেপকে আইনের শাসন দুর্বল করার একটি সুস্পষ্ট ‘ছক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ল সোসাইটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবিগুলো হলো— কোনো বৈষম্য ছাড়াই সকল আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বার নির্বাচন পরিচালনা করা, সব নির্বাচনি অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা এবং আইনজীবীরা যেন কোনো রকম ভয় বা প্রতিশোধের শিকার না হয়ে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। এই চিঠির অনুলিপি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে নিযুক্ত উভয় দেশের হাই কমিশনারসহ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সিসিবিই-এর পাঠানো চিঠিতেও একই ধরনের অনিয়ম ও অগণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল এবং বাংলাদেশকে আইন পেশার সুরক্ষাসংক্রান্ত নতুন ইউরোপীয় কনভেনশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















