ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

শ্রীপুরে গ্রাহক সংকটে পেট্রোল পাম্প, চত্বরজুড়ে এখন কৃষকের ধান

গাজীপুরের শ্রীপুরে একসময় যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর জ্বালানি সংগ্রহের ব্যস্ততা থাকত, সময়ের ব্যবধানে সেখানে এখন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের বিশাল ও পাকা চত্বরগুলো এখন স্থানীয় কৃষকদের ধান মাড়াই এবং শুকানোর অস্থায়ী চাতালে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্রাহক না থাকায় পাম্পের খালি জায়গাগুলো এভাবেই ব্যবহার করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার টেংরা ও টেপিরবাড়ি এলাকার বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাম্পের পাকা আঙিনাজুড়ে বিছিয়ে রাখা হয়েছে সদ্য কাটা বোরো ধান। কোথাও নারী-পুরুষ মিলে ধান উল্টেপাল্টে দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে যান্ত্রিক উপায়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। গ্রাম্য গৃহস্থালির এই দৃশ্য মহাসড়কের পাশের পাম্পগুলোতে এক অভিনব আবহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হলেও বাড়িতে ধান শুকানোর মতো পর্যাপ্ত পাকা বা খোলা জায়গা নেই। ফিলিং স্টেশনের চত্বরটি খোলামেলা এবং পাকা হওয়ায় সেখানে দ্রুত ধান শুকানো সহজ হয়। পাম্পের জায়গা বড় হওয়ায় অল্প সময়ে বেশি ধান প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আগের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে মন্দা এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে পাম্পগুলোতে আগের মতো ভিড় হচ্ছে না। ফলে জায়গাটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় মানবিক কারণে কৃষকদের সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন তারা। এক সময়ের ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এখন কৃষকের কাজের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামে পাউবোর বাঁধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শ্রীপুরে গ্রাহক সংকটে পেট্রোল পাম্প, চত্বরজুড়ে এখন কৃষকের ধান

আপডেট সময় : ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে একসময় যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর জ্বালানি সংগ্রহের ব্যস্ততা থাকত, সময়ের ব্যবধানে সেখানে এখন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের বিশাল ও পাকা চত্বরগুলো এখন স্থানীয় কৃষকদের ধান মাড়াই এবং শুকানোর অস্থায়ী চাতালে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্রাহক না থাকায় পাম্পের খালি জায়গাগুলো এভাবেই ব্যবহার করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার টেংরা ও টেপিরবাড়ি এলাকার বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাম্পের পাকা আঙিনাজুড়ে বিছিয়ে রাখা হয়েছে সদ্য কাটা বোরো ধান। কোথাও নারী-পুরুষ মিলে ধান উল্টেপাল্টে দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে যান্ত্রিক উপায়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। গ্রাম্য গৃহস্থালির এই দৃশ্য মহাসড়কের পাশের পাম্পগুলোতে এক অভিনব আবহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হলেও বাড়িতে ধান শুকানোর মতো পর্যাপ্ত পাকা বা খোলা জায়গা নেই। ফিলিং স্টেশনের চত্বরটি খোলামেলা এবং পাকা হওয়ায় সেখানে দ্রুত ধান শুকানো সহজ হয়। পাম্পের জায়গা বড় হওয়ায় অল্প সময়ে বেশি ধান প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আগের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে মন্দা এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে পাম্পগুলোতে আগের মতো ভিড় হচ্ছে না। ফলে জায়গাটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় মানবিক কারণে কৃষকদের সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন তারা। এক সময়ের ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এখন কৃষকের কাজের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।