টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে দেশের নদ-নদীর পানি বাড়লেও আগামী কয়েকদিন বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংস্থাটির সহকারী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের প্রভাবে দেশের নদ-নদীর পানি বাড়লেও আগামী কয়েকদিন কোথাও বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। তিনি আরও বলেন, হাওর অঞ্চলের ধান কাটা শেষ হওয়ায় এখন সেখানে পানি বাড়লেও এ মুহূর্তে কোনো সমস্যা নেই। এতদিন আমরা কৃষকের ধানক্ষেতের কারণে হাওর অঞ্চলে ফোকাস দিয়েছিলাম। এখন সারাদেশের নদ-নদীর পানি নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্তব্যরত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, কয়েকদিনে হাওর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও ভারী থেকে অতিভারীর বৃষ্টিতে আবার অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় নেত্রকোণা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সমূহের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
বৃহস্পতিবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের নদ-নদীর ১২৭টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭২টির পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৪৫টির হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া ৮টির পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ময়মনসিংহ, রংপুর ও ঢাকা বিভাগে ভারি থেকে অতি-ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে এবং উজানে ভারতের মেঘালয় ও সিকিম অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ দিন সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও সিকিম অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে; উভয়ই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৫ দিন গঙ্গা ও পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























