ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বন্দি মায়ের মুক্তি চেয়ে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে ৮ বছরের শিশু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। যেখানে আট বছর বয়সী শিশু জেরিন তার সৎ মা ও আট মাস বয়সী ছোট ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হয়। শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মে তার সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানসহ কারাগারে রয়েছেন।

জেরিনের গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার মা ও আট মাসের ভাইয়ের জেল থেকে মুক্তি চাই’। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটি জানায়, মা কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মা তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং ছোট ভাইয়ের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সে তার মায়ের ফিরে আসা কামনা করছে। জেরিনের বাবা মুন্না মোল্লা একজন দরিদ্র ভ্যানচালক। তিনি জানান, স্ত্রী জেলে থাকায় তার তিনটি কন্যা সন্তান চরম অবহেলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

প্রতিবেশীরাও শিশুটির এই আকুতিতে সমব্যথী। তারা জানান, আইন অনুযায়ী বিচার চললেও মানবিক দিক বিবেচনা করে শিশুটির মায়ের জামিন হওয়া প্রয়োজন। তবে ঘটনার দিন ইউএনও সরকারি কাজে জেলা সদরে থাকায় জেরিন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেনি। পরিবারের এই অসহায়ত্ব এখন স্থানীয় মহলে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হামলা বন্ধে ঐকমত্য, দোহায় বৈঠক

বন্দি মায়ের মুক্তি চেয়ে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে ৮ বছরের শিশু

আপডেট সময় : ০৪:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। যেখানে আট বছর বয়সী শিশু জেরিন তার সৎ মা ও আট মাস বয়সী ছোট ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হয়। শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মে তার সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানসহ কারাগারে রয়েছেন।

জেরিনের গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার মা ও আট মাসের ভাইয়ের জেল থেকে মুক্তি চাই’। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটি জানায়, মা কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মা তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং ছোট ভাইয়ের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সে তার মায়ের ফিরে আসা কামনা করছে। জেরিনের বাবা মুন্না মোল্লা একজন দরিদ্র ভ্যানচালক। তিনি জানান, স্ত্রী জেলে থাকায় তার তিনটি কন্যা সন্তান চরম অবহেলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

প্রতিবেশীরাও শিশুটির এই আকুতিতে সমব্যথী। তারা জানান, আইন অনুযায়ী বিচার চললেও মানবিক দিক বিবেচনা করে শিশুটির মায়ের জামিন হওয়া প্রয়োজন। তবে ঘটনার দিন ইউএনও সরকারি কাজে জেলা সদরে থাকায় জেরিন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেনি। পরিবারের এই অসহায়ত্ব এখন স্থানীয় মহলে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।