জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের ভেতরে ও বাইরে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই সনদের প্রতিটি ধারা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, রাজপথে হইচই না করে সংসদের আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান হওয়া উচিত। ইতোমধ্যে তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো প্রকল্পগুলো চালু করে নিজের সদিচ্ছা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সরকারের এই আশ্বাসের পরও বিরোধী দলগুলো মনে করছে যে, সরকার বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
এই অবিশ্বাসের মূল জায়গাটি তৈরি হয়েছে সংবিধানের সংস্কার বনাম সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে। জামায়াত ও অন্যান্য শরিক দলগুলো চায় রাষ্ট্রপতির সংস্কারাদেশ অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন আনতে। অপরদিকে বিএনপি বলছে যে, বিদ্যমান সংবিধানে কেবল সংশোধনের সুযোগ আছে, সংস্কারের নয়। বিশেষ করে একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান না হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো সংবিধানে হুবহু যুক্ত করা নিয়ে বিএনপির অনীহা বিরোধীদের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্য এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়টি এই অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিরোধীদের মতে, সরকার মুখে সুন্দর প্রতিশ্রুতি দিলেও মূলত সংবিধানের দোহাই দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। এ কারণে তারা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ভরসা রাখতে না পেরে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে। ১৬ মে রাজশাহীতে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তারা তাদের বিভাগীয় কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে, যা জুলাই মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের বড় শহরগুলোতে চলবে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের এই বিপরীতমুখী অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























