ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনুকূল আবহাওয়ায় সুনামগঞ্জে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকায় সুনামগঞ্জ জেলায় রোপা আমন ধানের আশাতীত বাম্পার ফলন হয়েছে, যার ফলে কৃষকের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ আশা করছে এবার চালের হিসাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে, যার বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকারও বেশি হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় মোট ৮২ হাজার ৬৫৬ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। চালের হিসাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৮ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে সকল ধান কাটা সম্পন্ন হবে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন হাওর ও মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বাম্পার ফলনে কৃষাণ-কৃষাণিরা ধান কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবার ভারী বৃষ্টি বা বন্যার মতো সমস্যা না হওয়ায় তারা লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তবে ভালো ফলন হলেও চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, অনুকূল আবহাওয়া এবং শুরু থেকেই কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন ও সঠিক প্রক্রিয়া নিয়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ায় এই বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। এটি জেলার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলেই এই ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধান কাটা ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় যেকোনো সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন সর্বদা তাদের পাশে থাকবে। এই ভালো ফলন জেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব: গুলিতে প্রাণ হারালেন কুতুবদিয়ার এক জেলে

অনুকূল আবহাওয়ায় সুনামগঞ্জে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন

আপডেট সময় : ০১:০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকায় সুনামগঞ্জ জেলায় রোপা আমন ধানের আশাতীত বাম্পার ফলন হয়েছে, যার ফলে কৃষকের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। ইতোমধ্যে জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ আশা করছে এবার চালের হিসাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে, যার বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকারও বেশি হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় মোট ৮২ হাজার ৬৫৬ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। চালের হিসাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৮ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে সকল ধান কাটা সম্পন্ন হবে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন হাওর ও মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বাম্পার ফলনে কৃষাণ-কৃষাণিরা ধান কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবার ভারী বৃষ্টি বা বন্যার মতো সমস্যা না হওয়ায় তারা লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তবে ভালো ফলন হলেও চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, অনুকূল আবহাওয়া এবং শুরু থেকেই কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন ও সঠিক প্রক্রিয়া নিয়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ায় এই বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। এটি জেলার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলেই এই ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধান কাটা ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় যেকোনো সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন সর্বদা তাদের পাশে থাকবে। এই ভালো ফলন জেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি জানান।