ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

নাফ নদীতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব: জেলে নৌকা ডুবিয়ে লুট, সীমান্তে আতঙ্ক

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্য দিবালোকে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে, লুটপাট চালায় এবং পরে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সুলিশপাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে। নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করে তারা ফাঁকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে নৌকায় থাকা দুই জেলে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। দুর্বৃত্তরা পরে জেলে নৌকাটি নিজেদের নৌকার সাথে বেঁধে মাঝ নদীতে নিয়ে যায়, জাল ও মালামাল লুট করে এবং অবশেষে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়।

ঘটনার সময় ঈদ উপলক্ষে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন, যেখানে দুর্বৃত্তদের হাতে একে-৪৭ সদৃশ অস্ত্র দেখা গেছে বলে জানা গেছে। নদী থেকে তীরে উঠে আসা দুই রোহিঙ্গাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করেছে।

৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে তিনজনের একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল। জেলেরা থামতে রাজি না হলে তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাত দল চর কাব্যিকের দিকে পালিয়ে যায়। বিজিবি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা আনার জন্য নদীপথে গিয়েছিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল তাদের ওপর হামলা চালায়। আটককৃতরা হলেন ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩), যারা উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুরির অপবাদ দিয়ে শিশুকে ইনজেকশন পুশ করে নির্যাতন: লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা

নাফ নদীতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব: জেলে নৌকা ডুবিয়ে লুট, সীমান্তে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্য দিবালোকে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে, লুটপাট চালায় এবং পরে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সুলিশপাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে। নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করে তারা ফাঁকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে নৌকায় থাকা দুই জেলে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। দুর্বৃত্তরা পরে জেলে নৌকাটি নিজেদের নৌকার সাথে বেঁধে মাঝ নদীতে নিয়ে যায়, জাল ও মালামাল লুট করে এবং অবশেষে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়।

ঘটনার সময় ঈদ উপলক্ষে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন, যেখানে দুর্বৃত্তদের হাতে একে-৪৭ সদৃশ অস্ত্র দেখা গেছে বলে জানা গেছে। নদী থেকে তীরে উঠে আসা দুই রোহিঙ্গাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করেছে।

৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে তিনজনের একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল। জেলেরা থামতে রাজি না হলে তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাত দল চর কাব্যিকের দিকে পালিয়ে যায়। বিজিবি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা আনার জন্য নদীপথে গিয়েছিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল তাদের ওপর হামলা চালায়। আটককৃতরা হলেন ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩), যারা উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।