ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

স্বর্গের ফল ‘মিয়াজাকি আম’: এক জোড়ার দাম লাখ টাকা!

এক জোড়া আমের দাম কয়েক লাখ রুপি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও জাপানে এটিই সত্যি। বিশ্বজুড়ে ‘সূর্যের ডিম’ নামে পরিচিত জাপানের মিয়াজাকি আম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফল হিসেবে স্বীকৃত, যা আমপ্রেমীদের কাছে এক কিংবদন্তি।

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিয়াজাকি প্রিফেকচারে এই আমের উৎপত্তি। সাধারণ আমের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এর গাঢ় রুবি-লাল রঙ, মসৃণ চামড়া এবং বিশেষ আকৃতি। কাটার পর এর ভেতর পাওয়া যায় আঁশহীন, মাখনের মতো মসৃণ ও রসাল সোনালী শাঁস। সেরা মানের এই আমে শর্করার পরিমাণ অন্তত ১৫ শতাংশ হতে হয়।

এই আমের আকাশচুম্বী দামের মূল কারণ এর পেছনে চাষিদের অবিশ্বাস্য শ্রম, যত্ন আর ধৈর্য। মিয়াজাকি আম খোলা মাঠে নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউসের ভেতরে চাষ করা হয়। গাছের পুষ্টি যাতে সীমিতসংখ্যক আমে সর্বোচ্চ পরিমাণে পৌঁছায়, সেজন্য চাষিরা প্রায় ৮০ শতাংশ মুকুল শুরুতেই কেটে ফেলেন। আমগুলো যখন বড় হতে শুরু করে, তখন প্রতিটি আমকে বিশেষ জালে জড়িয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে চারপাশ থেকে সমানভাবে সূর্যালোক পায়। এমনকি আমের নিচের অংশেও আলো প্রতিফলিত করার জন্য বিশেষ প্রতিফলক ব্যবহার করা হয়।

কঠোর পরিচর্যার পরও সব আম ‘সূর্যের ডিম’ উপাধি পায় না। কেবল নিখুঁত আমগুলোই এই খেতাব পায়। এর জন্য প্রতিটি আমের ওজন ৩০০ গ্রামের বেশি হতে হয়, কোনও দাগ থাকা চলে না এবং রঙ ও মিষ্টির মান হতে হয় একদম নিখুঁত। এরপর নির্বাচিত আমগুলো জাপানের মিয়াজাকি সেন্ট্রাল হোলসেল মার্কেটে নিলামে তোলা হয়। সেখানে এক জোড়া মিয়াজাকি আম সর্বোচ্চ ৬ লাখ জাপানি ইয়েন বা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে! অর্থাৎ একটি আমের দাম একটি দামি স্মার্টফোন, লাক্সারি হ্যান্ডব্যাগ কিংবা ছোট স্বর্ণের গহনার চেয়েও বেশি।

বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও ফিলিপাইনের পাশাপাশি ভারতেও এই আমের চাষ শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: আসছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো

স্বর্গের ফল ‘মিয়াজাকি আম’: এক জোড়ার দাম লাখ টাকা!

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

এক জোড়া আমের দাম কয়েক লাখ রুপি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও জাপানে এটিই সত্যি। বিশ্বজুড়ে ‘সূর্যের ডিম’ নামে পরিচিত জাপানের মিয়াজাকি আম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফল হিসেবে স্বীকৃত, যা আমপ্রেমীদের কাছে এক কিংবদন্তি।

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিয়াজাকি প্রিফেকচারে এই আমের উৎপত্তি। সাধারণ আমের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এর গাঢ় রুবি-লাল রঙ, মসৃণ চামড়া এবং বিশেষ আকৃতি। কাটার পর এর ভেতর পাওয়া যায় আঁশহীন, মাখনের মতো মসৃণ ও রসাল সোনালী শাঁস। সেরা মানের এই আমে শর্করার পরিমাণ অন্তত ১৫ শতাংশ হতে হয়।

এই আমের আকাশচুম্বী দামের মূল কারণ এর পেছনে চাষিদের অবিশ্বাস্য শ্রম, যত্ন আর ধৈর্য। মিয়াজাকি আম খোলা মাঠে নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউসের ভেতরে চাষ করা হয়। গাছের পুষ্টি যাতে সীমিতসংখ্যক আমে সর্বোচ্চ পরিমাণে পৌঁছায়, সেজন্য চাষিরা প্রায় ৮০ শতাংশ মুকুল শুরুতেই কেটে ফেলেন। আমগুলো যখন বড় হতে শুরু করে, তখন প্রতিটি আমকে বিশেষ জালে জড়িয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে চারপাশ থেকে সমানভাবে সূর্যালোক পায়। এমনকি আমের নিচের অংশেও আলো প্রতিফলিত করার জন্য বিশেষ প্রতিফলক ব্যবহার করা হয়।

কঠোর পরিচর্যার পরও সব আম ‘সূর্যের ডিম’ উপাধি পায় না। কেবল নিখুঁত আমগুলোই এই খেতাব পায়। এর জন্য প্রতিটি আমের ওজন ৩০০ গ্রামের বেশি হতে হয়, কোনও দাগ থাকা চলে না এবং রঙ ও মিষ্টির মান হতে হয় একদম নিখুঁত। এরপর নির্বাচিত আমগুলো জাপানের মিয়াজাকি সেন্ট্রাল হোলসেল মার্কেটে নিলামে তোলা হয়। সেখানে এক জোড়া মিয়াজাকি আম সর্বোচ্চ ৬ লাখ জাপানি ইয়েন বা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে! অর্থাৎ একটি আমের দাম একটি দামি স্মার্টফোন, লাক্সারি হ্যান্ডব্যাগ কিংবা ছোট স্বর্ণের গহনার চেয়েও বেশি।

বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও ফিলিপাইনের পাশাপাশি ভারতেও এই আমের চাষ শুরু হয়েছে।