ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রবল বর্ষণে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত: সরকারি অফিস ও বোরো ক্ষেত জলমগ্ন

কুড়িগ্রাম জেলায় টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিস, সড়ক এবং নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে জেলার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার বোরো ধানের ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত একটানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জজ কোর্ট, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট, জেলা খাদ্যগুদাম ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসা এক সেবাগ্রহীতা রবিউল ইসলাম জানান, “একটু বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বহু বছর ধরে এই সমস্যা চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলার চরাঞ্চলের বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে ডুবে গেছে। অনেক কৃষক কাটা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজেও চরম বিপাকে পড়েছেন। পানিতে ভিজে খড় ও ধান পঁচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট চরের কৃষক চাঁন মিয়া বলেন, “ডিজেলের সংকটের মধ্যেও কষ্ট করে এক বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।” রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম এলাকার তিস্তা চরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, “হাঁটুসমান পানির নিচ থেকে ধান কেটে এখন মাড়াই করতে পারছি না। খড় শুকাতে না পারায় পঁচে যাচ্ছে। ভালো ফলন পেলেও ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।” সদরের চরুয়া পাড়ার বাসিন্দা রমেছা বেগম বলেন, “পানির নিচ থেকে কষ্ট করে ধান কেটে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন ধান শুকাতে পারছি না। আর দুই-একদিন বৃষ্টি হলে সব পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে।” কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর তিস্তার পানি, নীলফামারীতে বন্যার শঙ্কা

প্রবল বর্ষণে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত: সরকারি অফিস ও বোরো ক্ষেত জলমগ্ন

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলায় টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিস, সড়ক এবং নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে জেলার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার বোরো ধানের ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত একটানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জজ কোর্ট, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট, জেলা খাদ্যগুদাম ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসা এক সেবাগ্রহীতা রবিউল ইসলাম জানান, “একটু বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বহু বছর ধরে এই সমস্যা চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলার চরাঞ্চলের বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে ডুবে গেছে। অনেক কৃষক কাটা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজেও চরম বিপাকে পড়েছেন। পানিতে ভিজে খড় ও ধান পঁচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট চরের কৃষক চাঁন মিয়া বলেন, “ডিজেলের সংকটের মধ্যেও কষ্ট করে এক বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।” রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম এলাকার তিস্তা চরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, “হাঁটুসমান পানির নিচ থেকে ধান কেটে এখন মাড়াই করতে পারছি না। খড় শুকাতে না পারায় পঁচে যাচ্ছে। ভালো ফলন পেলেও ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।” সদরের চরুয়া পাড়ার বাসিন্দা রমেছা বেগম বলেন, “পানির নিচ থেকে কষ্ট করে ধান কেটে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন ধান শুকাতে পারছি না। আর দুই-একদিন বৃষ্টি হলে সব পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে।” কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।