ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সৌদি আরব ও আমিরাতের তিক্ত সম্পর্ক: আদর্শ, পরিবার ও ইতিহাসের সংঘাত

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, পারিবারিক প্রভাব এবং আদর্শগত ভিন্নতার কারণে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক আবারও সামনে এসেছে। একসময় সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহিয়ান পরিবারের এক রাজপুত্রকে তেলসমৃদ্ধ একটি মরূদ্যানের নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য বিশাল অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলস্বরূপ সৌদি আরব ওই অঞ্চলে আক্রমণ করলেও তা ব্যর্থ হয়।

সেই ঐতিহাসিক ‘বুরাইমি বিরোধ’-এর পর কয়েক দশক পেরিয়ে আবারও ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আল-নাহিয়ান পরিবারের সেই রাজপুত্রের ছেলে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) এখন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে এক তিক্ত লড়াইয়ে লিপ্ত। এই দুই দেশের দ্বন্দ্ব এখন লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ত্যাগ করেছে। আবুধাবি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এখন থেকে প্রতিদিন আরও কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করবে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে সৌদির সঙ্গে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ মূল্য যুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

ওপেক ত্যাগের কারণ হিসেবে তেল উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ভিন্নতাকে উল্লেখ করা হলেও, এর গভীরে রয়েছে নেতৃত্বের সংঘাত। আমিরাত দ্রুত বেশি তেল তুলে মুনাফা করতে চায়, যেখানে সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদে দাম ধরে রাখতে বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে আগ্রহী। সৌদি আরব নিজেদের উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক নেতা মনে করে, অন্যদিকে আমিরাত নিজেদের একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, যা সৌদির প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান ইস্যুতে শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ভারতের নতুন অধ্যায়

সৌদি আরব ও আমিরাতের তিক্ত সম্পর্ক: আদর্শ, পরিবার ও ইতিহাসের সংঘাত

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, পারিবারিক প্রভাব এবং আদর্শগত ভিন্নতার কারণে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক আবারও সামনে এসেছে। একসময় সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহিয়ান পরিবারের এক রাজপুত্রকে তেলসমৃদ্ধ একটি মরূদ্যানের নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য বিশাল অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলস্বরূপ সৌদি আরব ওই অঞ্চলে আক্রমণ করলেও তা ব্যর্থ হয়।

সেই ঐতিহাসিক ‘বুরাইমি বিরোধ’-এর পর কয়েক দশক পেরিয়ে আবারও ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আল-নাহিয়ান পরিবারের সেই রাজপুত্রের ছেলে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) এখন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে এক তিক্ত লড়াইয়ে লিপ্ত। এই দুই দেশের দ্বন্দ্ব এখন লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ত্যাগ করেছে। আবুধাবি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এখন থেকে প্রতিদিন আরও কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করবে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে সৌদির সঙ্গে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ মূল্য যুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

ওপেক ত্যাগের কারণ হিসেবে তেল উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ভিন্নতাকে উল্লেখ করা হলেও, এর গভীরে রয়েছে নেতৃত্বের সংঘাত। আমিরাত দ্রুত বেশি তেল তুলে মুনাফা করতে চায়, যেখানে সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদে দাম ধরে রাখতে বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে আগ্রহী। সৌদি আরব নিজেদের উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক নেতা মনে করে, অন্যদিকে আমিরাত নিজেদের একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, যা সৌদির প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।