ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সাত সন্তানের মা মনোয়ারার জীবনযুদ্ধ: শাক বিক্রি করেই চলে সংসার

সাত সন্তান থাকার পরও কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের কাঁধেই সংসারের ভার টেনে চলেছেন পঞ্চাশোর্ধ মনোয়ারা খাতুন। রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় প্রতিদিন সকালে বাজার বা নদীর ধারের মাঠ থেকে তুলে আনা শাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেই চলে তার ও স্বামীর সংসার।

রামপুরা বনশ্রীর এফ/জি ব্লকের এভিনিউ রোডের জি ব্লকের শুরুতেই প্রতিদিন ভোরে মনোয়ারাকে দেখা যায় শাকের ঝুড়ি নিয়ে বসতে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা-১০টার মধ্যেই তার দিনের বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কথা বলে জানা যায়, তার চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে ছাড়া সবাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। স্বামী এখনো দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ছেলে কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ায় বর্তমানে বাসাতেই থাকেন।

মনোয়ারা বলেন, “কাজ করি বলেই তো বেঁচে আছি, খেতে পাই। কাজ না করলে কীভাবে চলব? ছেলে-মেয়েরা তো আলাদা, তাদের সংসার আছে। আমরা যেহেতু এখনো চলতে পারি, তাই কারও বোঝা হই না।” তিনি আরও জানান, ১৫ বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর থেকে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি ও তার স্বামী। প্রথমে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করলেও গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে শাক বিক্রিকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্বামী ইউসুফ আলীও এখন দিনমজুরের কাজ করেন এবং মাঝেমধ্যে শাক বিক্রিতেও সহযোগিতা করেন।

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় ক্লান্তি থাকলেও তার কণ্ঠে নেই কোনো অভিযোগ বা আক্ষেপ। শুধু জীবনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মনোয়ারা বলেন, “এখন এই বয়সে আর কী করব… যতদিন পারব, এভাবেই চলব। যখন আর পারব না, তখন হয়তো ঢাকা ছেড়ে চলে যাব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম অপসারণে বিলম্ব: সিনেট থেকে ছাত্র প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

সাত সন্তানের মা মনোয়ারার জীবনযুদ্ধ: শাক বিক্রি করেই চলে সংসার

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সাত সন্তান থাকার পরও কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের কাঁধেই সংসারের ভার টেনে চলেছেন পঞ্চাশোর্ধ মনোয়ারা খাতুন। রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় প্রতিদিন সকালে বাজার বা নদীর ধারের মাঠ থেকে তুলে আনা শাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেই চলে তার ও স্বামীর সংসার।

রামপুরা বনশ্রীর এফ/জি ব্লকের এভিনিউ রোডের জি ব্লকের শুরুতেই প্রতিদিন ভোরে মনোয়ারাকে দেখা যায় শাকের ঝুড়ি নিয়ে বসতে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা-১০টার মধ্যেই তার দিনের বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কথা বলে জানা যায়, তার চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে ছাড়া সবাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। স্বামী এখনো দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ছেলে কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ায় বর্তমানে বাসাতেই থাকেন।

মনোয়ারা বলেন, “কাজ করি বলেই তো বেঁচে আছি, খেতে পাই। কাজ না করলে কীভাবে চলব? ছেলে-মেয়েরা তো আলাদা, তাদের সংসার আছে। আমরা যেহেতু এখনো চলতে পারি, তাই কারও বোঝা হই না।” তিনি আরও জানান, ১৫ বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর থেকে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি ও তার স্বামী। প্রথমে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করলেও গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে শাক বিক্রিকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্বামী ইউসুফ আলীও এখন দিনমজুরের কাজ করেন এবং মাঝেমধ্যে শাক বিক্রিতেও সহযোগিতা করেন।

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় ক্লান্তি থাকলেও তার কণ্ঠে নেই কোনো অভিযোগ বা আক্ষেপ। শুধু জীবনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মনোয়ারা বলেন, “এখন এই বয়সে আর কী করব… যতদিন পারব, এভাবেই চলব। যখন আর পারব না, তখন হয়তো ঢাকা ছেড়ে চলে যাব।”