আজ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার—বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র, মধুর এবং মমতাময়ী শব্দ ‘মা’। মাত্র একটি অক্ষরের এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সমস্ত নিরাপত্তা, অকৃত্রিম ভালোবাসা আর পরম নির্ভরতা। সামান্য বিপদে কিংবা ব্যথায় আমরা অবচেতন মনেই প্রথম যাকে স্মরণ করি, তিনি হলেন মা। আজকের এই বিশেষ দিনে বিশ্বজুড়ে মায়েদের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আসলে বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন পড়ে না; জীবনের প্রতিটি ক্ষণই মায়ের জন্য বরাদ্দ থাকা উচিত। তবুও একটি দিনকে বিশেষভাবে মায়ের জন্য উৎসর্গ করার মাধ্যমে তাঁকে অনন্য অনুভব করানোর মধ্যে রয়েছে এক অন্যরকম আনন্দ। আজ সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মায়েদের প্রতি ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন অগণিত মানুষ। মায়ের সঙ্গে কাটানো প্রিয় মুহূর্তের ছবি আর আবেগঘন বার্তায় ভরে উঠছে ভার্চুয়াল জগত।
মায়ের স্মৃতি আর মমত্ববোধ নিয়ে যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকরা রচনা করেছেন কালজয়ী সাহিত্য। শৈশবে মায়ের আঙুল ধরে হাঁটা থেকে শুরু করে যৌবনের প্রতিটি সংকটে মায়ের আশীর্বাদ আমাদের প্রেরণা জোগায়। মায়ের শাড়ির আঁচল বা বুকের আশ্রয় যেন পৃথিবীর সমস্ত প্রতিকূলতা থেকে আমাদের আগলে রাখে। সেই মধুর স্মৃতিগুলোই মানুষকে সুন্দরের পথে চলতে শেখায় এবং ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তি দেয়।
মা দিবসের ইতিহাস: আধুনিক মা দিবসের যাত্রা শুরু হয় ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকার স্কুল শিক্ষিকা আনা জার্ভিস তাঁর প্রয়াত মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবসের প্রচলন করেন। ১৯০৫ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর তিনি সব মায়ের স্বীকৃতির জন্য প্রচারণা শুরু করেন। যদিও শুরুতে মার্কিন কংগ্রেস এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল, কিন্তু আনা জার্ভিস দমে যাননি। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় পরবর্তীতে আমেরিকার প্রতিটি প্রদেশে এই দিনটি পালিত হতে শুরু করে এবং বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়।
জন্মদাত্রী এবং জীবন গড়ে দেওয়ার কারিগর পৃথিবীর সকল মায়ের চরণে আজকের এই দিনে অবনত মস্তকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা। প্রতিটি মা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এবং সন্তানের ভালোবাসায় সিক্ত থাকুন—আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।
রিপোর্টারের নাম 
























