ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশ্ব মা দিবস: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধার দিন

মা—এই ছোট্ট একটি শব্দেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর গভীরতম ভালোবাসা, অফুরন্ত নিরাপত্তা আর সীমাহীন ত্যাগের গল্প। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না, সেই মহীয়সী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস। এই দিনে বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে মা দিবস, যেখানে সন্তানেরা তাদের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

মা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম অনুভূতি প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ। ব্যস্ত জীবনের বেড়াজালে হয়তো অনেক সময় মায়েদের বলা হয়ে ওঠে না, “মা, তোমাকে ভালোবাসি।” অথচ একজন মা সন্তানের জন্য নির্ঘুম রাত কাটান, অসুস্থতায় ছায়ার মতো পাশে থাকেন, আর নিজের সব কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। তাই এই দিনটি যেন মায়ের প্রতি অন্তরের গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ এনে দেয়।

আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৭ সালে ফিলাডেলফিয়ার আনা জারভিস তার মা আনা রিভস জারভিসের স্মরণে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আনা রিভস জারভিস মূলত শিশু মৃত্যুহার কমানো এবং মায়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতেন। মায়েদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই তার মেয়ে আনা জারভিস এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

আনা জারভিসের বিশ্বাস ছিল, পরিবার ও সমাজের জন্য মায়েরা যে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেন, তার স্বীকৃতি অপরিহার্য। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে সরকারিভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটিতে মা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশেও প্রতি বছর সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মা দিবসের গুরুত্ব বাড়ছে। এই দিনে অনেকেই মাকে ফুল, শাড়ি বা ছোট ছোট উপহার দিয়ে ভালোবাসা জানান। আবার কেউ কেউ মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোকেই সবচেয়ে বড় উপহার মনে করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও এই দিনে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম অপসারণে বিলম্ব: সিনেট থেকে ছাত্র প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

বিশ্ব মা দিবস: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধার দিন

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মা—এই ছোট্ট একটি শব্দেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর গভীরতম ভালোবাসা, অফুরন্ত নিরাপত্তা আর সীমাহীন ত্যাগের গল্প। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না, সেই মহীয়সী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস। এই দিনে বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে মা দিবস, যেখানে সন্তানেরা তাদের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

মা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম অনুভূতি প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ। ব্যস্ত জীবনের বেড়াজালে হয়তো অনেক সময় মায়েদের বলা হয়ে ওঠে না, “মা, তোমাকে ভালোবাসি।” অথচ একজন মা সন্তানের জন্য নির্ঘুম রাত কাটান, অসুস্থতায় ছায়ার মতো পাশে থাকেন, আর নিজের সব কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। তাই এই দিনটি যেন মায়ের প্রতি অন্তরের গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ এনে দেয়।

আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৭ সালে ফিলাডেলফিয়ার আনা জারভিস তার মা আনা রিভস জারভিসের স্মরণে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আনা রিভস জারভিস মূলত শিশু মৃত্যুহার কমানো এবং মায়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতেন। মায়েদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই তার মেয়ে আনা জারভিস এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

আনা জারভিসের বিশ্বাস ছিল, পরিবার ও সমাজের জন্য মায়েরা যে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেন, তার স্বীকৃতি অপরিহার্য। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে সরকারিভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটিতে মা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশেও প্রতি বছর সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মা দিবসের গুরুত্ব বাড়ছে। এই দিনে অনেকেই মাকে ফুল, শাড়ি বা ছোট ছোট উপহার দিয়ে ভালোবাসা জানান। আবার কেউ কেউ মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোকেই সবচেয়ে বড় উপহার মনে করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও এই দিনে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।