সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর মুরাদ শেখের (৩৬) কফিনবন্দি লাশ দেশে ফিরেছে। ১০ মাস বয়সী ছেলেকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন মুরাদ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জন্মের পর এই প্রথম তার সন্তান বাবাকে দেখলো, তাও কফিনের ভেতর। মুরাদের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মুরাদের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন জানান, তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন মুরাদ তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সৌদি আরবে যান। কয়েক মাস পর ছেলের জন্ম হলে মুরাদ অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৬ দিন আগে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদ নিহত হন।
গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের বাসিন্দা মুরাদের বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান এবং ১০ মাসের এক ছেলেসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে মাইশা খাতুন জানায়, দুর্ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কথা অস্পষ্ট থাকায় বাবা পরে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা আর পূরণ হয়নি।
মুরাদের লাশ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























