যশোরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। রবিবার (১০ মে) দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সোমবার দ্বিতীয় দফায়ও অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
রবিবার সকালে শহরের বাবলাতলা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেখানে সরকারি জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলার পর গাবতলা মোড়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশে নির্মিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং সি-ব্লক এলাকায় সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠা দুটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরেকটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকানও উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি এবং দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও অবৈধ দখলদাররা জায়গা না ছাড়ায় বাধ্য হয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দিনব্যাপী এই অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। সরকারি জমি উদ্ধারে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
অভিযানের সময় কিছু ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, তাদের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার দাবি করেন যে, সরকারি কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 



















