ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তা, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান অবৈধ দখলমুক্ত করা, হকার কার্ড বিতরণ বন্ধ এবং পথচারীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ স্থানীয় সরকার সচিব, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার দুই সিটির প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত, রাস্তা এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো হকার, দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা, রেস্তোরাঁ, হোটেল, মোবাইল মার্কেট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল হয়ে আসছে। এর ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তারা মূল সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দুর্ঘটনা, হয়রানি ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি করছে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ফুটপাত ও রাস্তা জনসাধারণের জন্য সংরক্ষিত এবং সেখানে কোনও প্রকার দখল, স্থাপনা নির্মাণ বা বাণিজ্যিক ব্যবহার বেআইনি। সিটি করপোরেশনের আইনগত দায়িত্বের মধ্যে জনপথের অবৈধ দখল প্রতিরোধ ও অপসারণ অন্তর্ভুক্ত।
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফুটপাত ও রাস্তার অংশবিশেষ চিহ্নিতকরণ, কাঠামো নির্মাণ এবং তথাকথিত হকার কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার ক্ষুন্ন করার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যদি ফুটপাতকে কার্যত বাণিজ্যিক দখলের লাইসেন্সে পরিণত করা হয়, তবে তা জনস্বার্থবিরোধী এবং সংবিধান ও আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে। ঢাকার চরম যানজটের সমস্যা এবং ফুটপাতে হকার, কার্ট ও স্থায়ী বা অর্ধ-স্থায়ী কাঠামোর ঘন ঘন অবস্থানের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ফুটপাতের ওপর চড়তে বাধ্য হয় এবং পথচারী বিতাড়িত হয়ে রাস্তায় নামে, যা উভয় পাশেই নিরাপদ গমনাগমন বিঘ্নিত করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
নোটিশে প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিতরণ করা বা প্রস্তাবিত সকল জনস্বার্থবিরোধী ও বেআইনিভাবে বরাদ্দ করা ‘হকার কার্ড’ বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























