বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারের পর ধারাবাহিক রিমান্ডে থাকার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রসিকিউশনের পক্ষে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানিকালে চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-কে তিনি এই কথা জানান।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি এই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার চেয়ে আবেদন করেন এবং একই সঙ্গে আসামিকে একদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন।
এক পর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কিছু বলার অনুমতি চান মাসুদ উদ্দিন। ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, “আমি ৭২ বছর বয়সী একজন মানুষ। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। গ্রেফতারের পর ধারাবাহিক রিমান্ডে রয়েছি। এজন্য দুদিন পর জিজ্ঞাসাবাদে নিলে ভালো হবে।” তিনি আরও জানান, গত মার্চ মাস থেকে তিনি রিমান্ডে রয়েছেন এবং ধারাবাহিকভাবে থাকার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
এসময় তার আইনজীবী লিটন আহমেদ ট্রাইব্যুনালকে জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ পেছানোর আরজি জানান। তবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, পুলিশের রিমান্ড এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ এক নয়। এখানে চিকিৎসকের পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনজীবীও উপস্থিত থাকতে পারেন।
মাসুদ উদ্দিনকে উদ্দেশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনার ভয় পাওয়ার কারণ নেই।” তখনও সময় পেছানোর অনুরোধ জানান মাসুদ উদ্দিন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মাসুদ উদ্দিনকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে কোনো সমস্যা হলে তা ট্রাইব্যুনালকে জানানোর জন্যও বলা হয়।
এর আগে গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তিনি এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত। গ্রেফতারের পর অন্যান্য মামলায় তাকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখানোর আগেই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























