ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান: দিশেহারা হাওরের কৃষক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে অকাল বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টার্জিত বোরো ধান। মাঠের পর মাঠ এখন পানির নিচে, আর বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার নিরন্তর চেষ্টা করছেন নিরুপায় কৃষকরা। অনেক জায়গায় কাটা ধান খলায় (মাড়াইয়ের জায়গা) রাখা হলেও বৃষ্টির কারণে তাতে পচন ধরেছে। চোখের সামনে সারা বছরের খোরাক নষ্ট হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন হাজারো কৃষক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি আরও ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও তা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে হাওরের নিচু এলাকার জমিগুলো এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না এবং তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ধান পরিবহনের রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতারণার ফাঁদ: ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে ব্যবহারকারীরা

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান: দিশেহারা হাওরের কৃষক

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে অকাল বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টার্জিত বোরো ধান। মাঠের পর মাঠ এখন পানির নিচে, আর বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার নিরন্তর চেষ্টা করছেন নিরুপায় কৃষকরা। অনেক জায়গায় কাটা ধান খলায় (মাড়াইয়ের জায়গা) রাখা হলেও বৃষ্টির কারণে তাতে পচন ধরেছে। চোখের সামনে সারা বছরের খোরাক নষ্ট হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন হাজারো কৃষক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি আরও ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও তা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে হাওরের নিচু এলাকার জমিগুলো এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না এবং তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ধান পরিবহনের রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে।