ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের ‘চাবাহার স্বপ্ন’ কি স্বপ্নই থেকে যাবে?

ইরানের চাবাহার বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বর্তমানে এক বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চাভিলাষী এই চাবাহার বন্দর প্রকল্প এখন স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে এই বন্দর ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান ভরসা।

ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর দুটি টার্মিনাল, শহীদ কালানতরি ও শহীদ বেহেশতি, এর মধ্যে শহীদ বেহেশতি টার্মিনালে ভারত প্রায় ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে, স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশাধিকার সীমিত। এই অবস্থায়, চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে ইরানে পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক ও রেলপথে ওই অঞ্চলগুলোতে পণ্য পরিবহন ভারতের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে।

কেবল অর্থনৈতিক গুরুত্বই নয়, চাবাহার বন্দরের কৌশলগত তাৎপর্যও অপরিসীম। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর উদ্বোধনের পর এই কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চীনের সহায়তায় নির্মিত গোয়াদার বন্দর ভারতের জন্য একটি সম্ভাব্য সামরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। গোয়াদার থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এই অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়াও, চাবাহার বন্দর আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি ভারত, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথে সংযোগ স্থাপন করেছে, যা ভারতের জন্য মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারে প্রবেশের একটি বড় পথ খুলে দেয়। তবে, সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এতিম ও দুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের ‘চাবাহার স্বপ্ন’ কি স্বপ্নই থেকে যাবে?

আপডেট সময় : ০৩:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের চাবাহার বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বর্তমানে এক বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চাভিলাষী এই চাবাহার বন্দর প্রকল্প এখন স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে এই বন্দর ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান ভরসা।

ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর দুটি টার্মিনাল, শহীদ কালানতরি ও শহীদ বেহেশতি, এর মধ্যে শহীদ বেহেশতি টার্মিনালে ভারত প্রায় ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে, স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশাধিকার সীমিত। এই অবস্থায়, চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে ইরানে পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক ও রেলপথে ওই অঞ্চলগুলোতে পণ্য পরিবহন ভারতের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে।

কেবল অর্থনৈতিক গুরুত্বই নয়, চাবাহার বন্দরের কৌশলগত তাৎপর্যও অপরিসীম। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর উদ্বোধনের পর এই কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চীনের সহায়তায় নির্মিত গোয়াদার বন্দর ভারতের জন্য একটি সম্ভাব্য সামরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। গোয়াদার থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এই অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়াও, চাবাহার বন্দর আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি ভারত, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথে সংযোগ স্থাপন করেছে, যা ভারতের জন্য মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারে প্রবেশের একটি বড় পথ খুলে দেয়। তবে, সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।