সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ছয়টি হাওরের কৃষকরা কালবৈশাখীর অতিভারী বৃষ্টিতে চরম দুর্দশা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। টানা পাঁচদিন ধরে অতি ভারী বর্ষণের ফলে ধানক্ষেতে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। ফসল তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধান শুকানোর খলা, মাঠঘাট সবর্ত্রেই আগাম বন্যার আকার ধারণ করেছে।
উপজেলার ভান্ডাবিল হাওরের আছানপুর গ্রামের কৃষক জন্টু চন্দ্র দাস জানান, ‘আমরার অবস্থা খুব খারাপ। এই হাওরে পার্শ্ববর্তী আছানপুরের বেড়িবাঁধে কালভার্ট (স্লুইসগেট) না থাকায় বুক পানিতে ক্ষেত (জমি) কাটতে হয়েছে। যেটুকু কেটেছি, রোদ না থাকায় খুব বিপদে পড়েছি। মাঠে রাখা মাড়াই করা ধানও গতরাতের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ধানের চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।
আগামী ৩ মে পর্যন্ত অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায় কৃষকেরা চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন পার করছেন। উপজেলার বড় মোট ছয়টি হাওরেই কৃষকদের একই দশা। অতি বৃষ্টির পানিতে অনেক উঁচু জমিও তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন চলছে না। জ্বালানি সংকট থাকায় অনেক হারভেস্টার/ধান কাটার মেশিন হাওরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শ্রমিক সংকটও এখন কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর ধানের দামও কম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওবাইদুল হক জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও হাওর রক্ষা বাঁধের পরিস্থিতি সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের সতর্ক করতে প্রতিটি হাওরে মাইকিং করা হয়েছে। সঙ্গে ৮০ ভাগ ধান পরিপক্ব হলেই দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায়ের উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ধান কাটার জন্য স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা হয়েছে। শুভজিৎ রায় বলেন, উপজেলায় এ বছর মোট ২১,৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। আজ পর্যন্ত হাওরে ৬৪% ও নন-হাওরে ৩৩% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সকল ধান কর্তন শেষ হবে। তিনি কৃষক ভাইদের ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে অপেক্ষা না করে দ্রুত কর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ চমকানোর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে কৃষকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 
























