হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস বর্তমান সময়ে একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে তা অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, যার ফলে সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন এবং আরও প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ হাড়ের দুর্বলতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের মেনোপজ বা মাসিক বন্ধ হওয়ার পর এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
হাড়ক্ষয়ের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব, শারীরিক পরিশ্রম না করা, ধূমপান এবং দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের ব্যবহার। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের স্বাভাবিক ক্ষয় হওয়া স্বাভাবিক হলেও অনিয়মিত জীবনযাপন এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী কোমরব্যথা, শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া বা উচ্চতা কমে যাওয়া হাড়ক্ষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল হয়ে গেলে তা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা থেকে পা ঝিনঝিন করা, অবশ হওয়া বা পক্ষাঘাতের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শে হাড়ের ঘনত্ব বা বিএমডি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে হাড়ের ভঙ্গুরতা ও পক্ষাঘাতের ঝুঁকি রোধ করা সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 

























