ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন: মতলব উত্তরে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের মূল লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে চরম সংকট তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও টর্চলাইটের আলোয় শত শত শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কক্ষগুলোতে এমনিতেই প্রাকৃতিক আলোর অভাব ছিল। এর উপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যায় এবং অসহনীয় গরম তৈরি হয়। অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, ঘাম ও অন্ধকারে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়তেই হিমশিম খাচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এই প্রতিকূল পরিবেশে তাদের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিভাবক আবুল কালাম সরকার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের (যেমন জেনারেটর বা আইপিএস) ব্যবস্থা না থাকাটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও জানান, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতেও বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং বৃষ্টির কারণে যাতায়াতব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের উপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেক বৈদ্যুতিক খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। দশানী মোহনপুর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র জানান, প্রতিটি রুমে মোমবাতি এবং বাইরের চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা: ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন: মতলব উত্তরে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের মূল লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে চরম সংকট তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও টর্চলাইটের আলোয় শত শত শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কক্ষগুলোতে এমনিতেই প্রাকৃতিক আলোর অভাব ছিল। এর উপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যায় এবং অসহনীয় গরম তৈরি হয়। অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, ঘাম ও অন্ধকারে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়তেই হিমশিম খাচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এই প্রতিকূল পরিবেশে তাদের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিভাবক আবুল কালাম সরকার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের (যেমন জেনারেটর বা আইপিএস) ব্যবস্থা না থাকাটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও জানান, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতেও বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং বৃষ্টির কারণে যাতায়াতব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের উপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেক বৈদ্যুতিক খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। দশানী মোহনপুর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র জানান, প্রতিটি রুমে মোমবাতি এবং বাইরের চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।