চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়াল ও ডাস্টবিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক পোস্টার দেখা গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়ি, পুরাতন আইইআর, ফিজিক্যাল এডুকেশন এবং চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এসব বিতর্কিত পোস্টার লক্ষ্য করা যায়। পোস্টারগুলোতে ‘ফ্যাসিস্ট নয়, বাংলাদেশের আর্টিস্ট শেখ হাসিনা’, ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘আওয়ামী লীগ ছিল, আছে এবং থাকবে’—এমন সব স্লোগান ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনটির এই তৎপরতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানিয়েছেন, পুলিশ মারফত খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তার মতে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে এই কাজ করা হতে পারে। তবে পোস্টার লাগানোর পেছনে নির্দিষ্ট কার হাত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই। প্রক্টর অফিসের এই অবস্থানকে ‘গা ছাড়া ভাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবি করেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ অভিযোগ করেন যে, ছাত্রলীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার জানানো সত্ত্বেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। তিনি বিষয়টিকে ঘিরে বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১৫ বছর ধরে শিক্ষার পরিবেশ নষ্টকারী একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য তৎপরতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন কেন নজরদারি বাড়াচ্ছে না, তা নিয়ে এখন ক্যাম্পাসজুড়ে বিতর্কের ঝড় বইছে।
রিপোর্টারের নাম 
























