চট্টগ্রাম নগরীতে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, বাকলিয়া, জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট, চকবাজারসহ নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ছাপিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ছে মানুষের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে। এই আকস্মিক জলাবদ্ধতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জলাবদ্ধতায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী প্রশ্ন তুলছেন, গত কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও এর সুফল মিলছে না। খাতা-কলমে প্রকল্পের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। নগরীর প্রবর্তক মোড়, শুলকবহর, চকবাজার, চান্দগাঁও, আকবরশাহ এলাকার জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবর্তক মোড় সামান্য বৃষ্টিতেই বুক সমান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, আর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, চাঁদগাঁও, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর এলাকা কোমরপানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রমতে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ এবং এটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলছে। প্রকল্পের সুবিধার্থে হিজরা খাল, জামালখান খাল, প্রবর্তক মোড় খালসহ বেশ কয়েকটি খালে বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এরপরও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর প্রবর্তক মোড়, কাপাসগোলা, শুলকবহর, মুরাদপুর, মেহেদীবাগ এলাকাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। সড়কের উপর ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পানি জমেছে, যার ফলে প্রাইভেট কার, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল এবং রিকশা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক যানবাহন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্কুল, কলেজ ও অফিসগামী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রবর্তক মোড়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই এই অবস্থা, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রিপোর্টারের নাম 



















