ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত ২৪টি বিহারি ক্যাম্পে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এসব ক্যাম্পের বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও এর বিপরীতে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পের বাসিন্দারা সরাসরি মেইন লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। ঘিঞ্জি পরিবেশের এই ক্যাম্পগুলোতে দিনরাত ফ্যান, বাল্ব, ফ্রিজ ও টেলিভিশন চললেও অধিকাংশ ঘরে কোনো মিটার নেই। ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ে বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ফ্রি বিদ্যুৎ সুবিধা ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রতি বছর বকেয়ার পাহাড় জমছে।

ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, তারা নিয়মিত বিল দিতে আগ্রহী হলেও তাদের নামে আলাদা মিটার দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে, নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিল পরিশোধের দায়ভার নিয়েছে। বাসিন্দারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় পরবর্তী বিলের দায়িত্ব নিতে নারাজ মন্ত্রণালয়। এই জটিলতায় সরকার যেমন বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত সংযোগের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্থিক সংকটে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন

সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত ২৪টি বিহারি ক্যাম্পে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এসব ক্যাম্পের বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও এর বিপরীতে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পের বাসিন্দারা সরাসরি মেইন লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। ঘিঞ্জি পরিবেশের এই ক্যাম্পগুলোতে দিনরাত ফ্যান, বাল্ব, ফ্রিজ ও টেলিভিশন চললেও অধিকাংশ ঘরে কোনো মিটার নেই। ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ে বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ফ্রি বিদ্যুৎ সুবিধা ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রতি বছর বকেয়ার পাহাড় জমছে।

ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, তারা নিয়মিত বিল দিতে আগ্রহী হলেও তাদের নামে আলাদা মিটার দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে, নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিল পরিশোধের দায়ভার নিয়েছে। বাসিন্দারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় পরবর্তী বিলের দায়িত্ব নিতে নারাজ মন্ত্রণালয়। এই জটিলতায় সরকার যেমন বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত সংযোগের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।