ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

হাম মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল: সরকারি নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র

দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানো না হয়। এমনকি শয্যা খালি না থাকলেও প্রয়োজনে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করে চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল বা ঢাকা শিশু হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ইতিমধ্যে ভর্তি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন, কিন্তু শয্যা না থাকায় চিকিৎসকরা তাঁদের অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতাল প্রধানদের মতে, রাতারাতি শয্যা সংখ্যা বাড়ানো কোনো সহজ কাজ নয়। কারণ একটি সাধারণ শয্যা বাড়াতে গেলেও তার সাথে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ, জায়গা এবং প্রয়োজনীয় নার্স ও চিকিৎসকের জোগান নিশ্চিত করতে হয়। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে, যার ফলে বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশু ওয়ার্ডের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যদিও অনেক হাসপাতাল অন্য বিভাগের শয্যাগুলো হামের রোগীদের জন্য বরাদ্দ দিয়ে সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে, তবুও রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ১৭ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে আইসিইউ এবং সাধারণ শয্যার অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে। জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর প্রকল্পগুলো মাঝপথে থমকে থাকা এবং বিভাগীয় শিশু হাসপাতালগুলো জনবল সংকটে চালু না হওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, কেবল শয্যা বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের যেমন সক্ষমতা রয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের মহামারি বা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তেমন কোনো শক্তিশালী ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। কোভিড পরবর্তী সময়েও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকায় এখন হামের মতো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও চরম অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছেদ বনাম পুনর্বাসন: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে বিকল্প কর্মসংস্থানের খোঁজে ঢাকা

হাম মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল: সরকারি নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র

আপডেট সময় : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানো না হয়। এমনকি শয্যা খালি না থাকলেও প্রয়োজনে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করে চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল বা ঢাকা শিশু হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ইতিমধ্যে ভর্তি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন, কিন্তু শয্যা না থাকায় চিকিৎসকরা তাঁদের অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতাল প্রধানদের মতে, রাতারাতি শয্যা সংখ্যা বাড়ানো কোনো সহজ কাজ নয়। কারণ একটি সাধারণ শয্যা বাড়াতে গেলেও তার সাথে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ, জায়গা এবং প্রয়োজনীয় নার্স ও চিকিৎসকের জোগান নিশ্চিত করতে হয়। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে, যার ফলে বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশু ওয়ার্ডের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যদিও অনেক হাসপাতাল অন্য বিভাগের শয্যাগুলো হামের রোগীদের জন্য বরাদ্দ দিয়ে সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে, তবুও রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ১৭ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে আইসিইউ এবং সাধারণ শয্যার অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে। জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর প্রকল্পগুলো মাঝপথে থমকে থাকা এবং বিভাগীয় শিশু হাসপাতালগুলো জনবল সংকটে চালু না হওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, কেবল শয্যা বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের যেমন সক্ষমতা রয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের মহামারি বা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তেমন কোনো শক্তিশালী ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। কোভিড পরবর্তী সময়েও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকায় এখন হামের মতো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও চরম অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।