একসময় নরসিংদীর পলাশ ও সংলগ্ন এলাকাগুলো ভোর হতেই হাজার হাজার শ্রমিকের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠত। তবে সময়ের বিবর্তনে এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এখানকার বিশালাকার পাটকলগুলো দীর্ঘ সময় ধরে নিস্তব্ধ পড়ে ছিল। সম্প্রতি সেই স্তব্ধতা ভেঙে আবারও চাকা ঘোরার নতুন স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের ঘোষণা অনুযায়ী, বন্ধ থাকা এই কলকারখানাগুলো ইজারার মাধ্যমে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে নেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পের আধুনিকায়ন এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। এই পরিকল্পনায় সাধারণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগই স্থানীয় পর্যায় থেকে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা নরসিংদীর শিক্ষিত ও পরিশ্রমী যুবকদের বেকারত্ব দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে। কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পদে অভিজ্ঞদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে মিলে আনা হবে আধুনিকতার ছোঁয়া।
পাটের সাথে নরসিংদীর মানুষের নাড়ির টান এবং এই শিল্পের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে নতুন বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইজারার মাধ্যমে মিলগুলো চালু হলে কেবল পণ্য উৎপাদনই হবে না, বরং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ‘সোনালি আঁশ’ পুনরায় তার রাজকীয় স্থান ফিরে পাবে। শেকড়কে সাথে নিয়ে আগামীর এই অগ্রযাত্রা জাতীয় অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং পলাশের বন্ধ জুটমিলগুলোর গেট খোলার মাধ্যমে সূচিত হবে টেকসই উন্নয়নের নতুন এক গল্প।
রিপোর্টারের নাম 

























