ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শেরে বাংলা: অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ও কৃষকদের বন্ধু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কেবল কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের এক অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি এবং রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

আজ (২৭ এপ্রিল) প্রখ্যাত এই নেতার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হককে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় শেরে বাংলার অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। এই প্রস্তাবটি আজও ঐতিহাসিকদের কাছে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কৃষকদের কল্যাণে ফজলুল হকের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি। তিনি প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি বাংলার কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাঁর দূরদৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃষক সমাজের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফজলুল হক প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং একইসাথে শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের রাউজানে ৪৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের যুবদলকর্মী খুন, এলাকায় আতঙ্ক

শেরে বাংলা: অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ও কৃষকদের বন্ধু

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কেবল কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের এক অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি এবং রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

আজ (২৭ এপ্রিল) প্রখ্যাত এই নেতার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হককে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় শেরে বাংলার অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। এই প্রস্তাবটি আজও ঐতিহাসিকদের কাছে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কৃষকদের কল্যাণে ফজলুল হকের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি। তিনি প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি বাংলার কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাঁর দূরদৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃষক সমাজের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফজলুল হক প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং একইসাথে শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।