ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন: দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টানছে পুঠিয়া রাজবাড়ী

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ী তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। রাজন্য শাসন বিলীন হলেও এই রাজপ্রাসাদের নান্দনিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে চলেছে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেখার জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও শত শত পর্যটক ভিড় করছেন।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫৫০ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে এই রাজবংশের সূচনা হয়। পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে এই বংশের উত্তরসূরিরা ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন এবং কালক্রমে এটি পুঠিয়া রাজবাড়ী হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে যে মূল ভবনটি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ, সেটি মূলত ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী তার শাশুড়ি শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করেছিলেন। ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এই দ্বিতল ভবনটি প্রাচীন আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে।

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পুঠিয়া রাজবাড়ীর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটক এই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন, যার মধ্যে ২৪টি দেশের প্রায় দেড় হাজার বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। রাজবাড়ীর আঙিনায় থাকা শিবসাগর, গোবিন্দসাগরসহ বিশাল সব দীঘি এবং শিব মন্দির, গোবিন্দ মন্দিরসহ ১৫টি প্রাচীন মঠ ও মন্দির এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতায় ধুঁকছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। রাজবাড়ীর চারপাশের অবৈধ স্থাপনা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার অভাব এবং প্রাচীন সামগ্রী সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, তবে পুঠিয়া রাজবাড়ী বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুরে সহকর্মীর বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষিকা, এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার

স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন: দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টানছে পুঠিয়া রাজবাড়ী

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ী তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। রাজন্য শাসন বিলীন হলেও এই রাজপ্রাসাদের নান্দনিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে চলেছে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেখার জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও শত শত পর্যটক ভিড় করছেন।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫৫০ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে এই রাজবংশের সূচনা হয়। পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে এই বংশের উত্তরসূরিরা ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন এবং কালক্রমে এটি পুঠিয়া রাজবাড়ী হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে যে মূল ভবনটি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ, সেটি মূলত ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী তার শাশুড়ি শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করেছিলেন। ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এই দ্বিতল ভবনটি প্রাচীন আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে।

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পুঠিয়া রাজবাড়ীর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটক এই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন, যার মধ্যে ২৪টি দেশের প্রায় দেড় হাজার বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। রাজবাড়ীর আঙিনায় থাকা শিবসাগর, গোবিন্দসাগরসহ বিশাল সব দীঘি এবং শিব মন্দির, গোবিন্দ মন্দিরসহ ১৫টি প্রাচীন মঠ ও মন্দির এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতায় ধুঁকছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। রাজবাড়ীর চারপাশের অবৈধ স্থাপনা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার অভাব এবং প্রাচীন সামগ্রী সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, তবে পুঠিয়া রাজবাড়ী বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।