ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন বরিশালের দুর্গাসাগর দীঘি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘি বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের এক অনন্য সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই দীঘিটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এলাকাটি অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক বাড়তি পাওনা।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী রানি দুর্গাবতী দেবীর স্মৃতি রক্ষার্থে এবং স্থানীয়দের পানির কষ্ট দূর করতে এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, রানি একবারে যতটুকু পথ হেঁটেছিলেন, ততটুকুই খনন করা হয়েছিল এই দীঘি। প্রায় ৪৫.৪২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জলাশয়ের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি ছোট দ্বীপ, যা দীঘির সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দীঘিটির মূল জলাশয় ২৭ একর ৩৮ শতাংশ এবং চারপাশের পাড় ১৮ একর ৪ শতাংশ। দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য পাড়জুড়ে রয়েছে প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। বর্তমানে পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এখানে আধুনিক রেস্ট হাউসসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রাচীন রাজবাড়ি আর শতবর্ষী বৃক্ষের ছায়াঘেরা এই স্থানটি ইতিহাস ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র আঘাত: ২ হাজার ৮০০ ফ্লাইট বাতিল, স্থবির জনজীবন

ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন বরিশালের দুর্গাসাগর দীঘি

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘি বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের এক অনন্য সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই দীঘিটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এলাকাটি অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক বাড়তি পাওনা।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী রানি দুর্গাবতী দেবীর স্মৃতি রক্ষার্থে এবং স্থানীয়দের পানির কষ্ট দূর করতে এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, রানি একবারে যতটুকু পথ হেঁটেছিলেন, ততটুকুই খনন করা হয়েছিল এই দীঘি। প্রায় ৪৫.৪২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জলাশয়ের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি ছোট দ্বীপ, যা দীঘির সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দীঘিটির মূল জলাশয় ২৭ একর ৩৮ শতাংশ এবং চারপাশের পাড় ১৮ একর ৪ শতাংশ। দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য পাড়জুড়ে রয়েছে প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। বর্তমানে পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এখানে আধুনিক রেস্ট হাউসসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রাচীন রাজবাড়ি আর শতবর্ষী বৃক্ষের ছায়াঘেরা এই স্থানটি ইতিহাস ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য।