পহেলা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতিতে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। লাল-সাদা শাড়ি এবং পাঞ্জাবির সাজে সেজে ওঠা মানুষের ঢল, মেলার আনন্দ, ঐতিহ্যবাহী খাবার আর গ্রামীণ খেলাধুলা – সব মিলিয়ে এই উৎসব এক অন্যরকম আমেজ তৈরি করে। শৈশবের স্মৃতিতে পহেলা বৈশাখের মেলা মানেই ছিল মুড়ি-মুড়কি, খই, সাজ-বিন্নি, বাতাসা আর বায়োস্কোপের মতো মজার সব আয়োজন। মামার হাত ধরে মেলায় গিয়ে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বা পুতুল-ঘোড়া কেনা, গরম গরম জিলাপি আর হাওয়াই মিঠাইয়ের স্বাদ নেওয়া ছিল এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। হাতি-ঘোড়া সদৃশ সাজ (বাতাসা) কেনা ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
বর্তমানে গ্রামের সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন করা হচ্ছে। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের এক বিশাল সমাহার দেখা যাচ্ছে। নকশিকাঁথা, মাটির পণ্য, বাঁশ-বেতের কাজ, গৃহসজ্জার সামগ্রী, শৌখিন কারুপণ্য, লোকজ পণ্য, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, জিআই পণ্য (জামদানি, শীতলপাটি) এবং মাটির তৈরি নানা ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১৬০ জন উদ্যোক্তা ও কারুশিল্পীর স্টল বসেছে, যেখানে তারা তাদের হাতে তৈরি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, জামদানি, নকশিকাঁথা, শতরঞ্জি ও মণিপুরি শাড়ি নিয়ে এসেছেন। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে। এই মেলা কেবল কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং ভিন্ন জেলার কারুশিল্পীদের সাথে পরিচিত হওয়া এবং তাদের পণ্যের কারুকার্য ও দাম সম্পর্কে জানার এক চমৎকার সুযোগ।
রিপোর্টারের নাম 
























