প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সমাজের সকল অনাচার দূর করতে আত্মশুদ্ধির মেহনতের কোনো বিকল্প নেই। তার মতে, আত্মশুদ্ধি ছাড়া আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলা সম্ভব নয়। তিনি সাহাবায়ে কেরামের উদাহরণ টেনে বলেন, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা যে গুনাহ করতেন, আত্মশুদ্ধির মেহনতের পর তারাই সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। মন্ত্রী বিশ্বাস করেন, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে বর্তমানে সমাজে বিরাজমান হত্যা, দুর্নীতি ও অরাজকতার মতো সকল অনাচার বন্ধ করা সম্ভব।
আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আসন্ন ইজতেমা বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী (পীর সাহেব বরুণা) তার বক্তব্যে সংগঠনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি জানান, খলীফায়ে মাদানী আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ. ১৯৪৪ সালে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত মাদানী রহ.-এর নির্দেশনা, থানভী রহ.-এর অনুমোদন এবং সমকালীন বুযুর্গ উলামাদের সমর্থন, বিশেষ করে আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. ও ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহ.-এর উদারতাপূর্ণ বিশেষ সহযোগিতায় আঞ্জুমান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে মুসলিম জনসাধারণের ধর্মীয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও দুঃসময়ে আর্তমানবতার সেবায় সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে। তিনি আগামী ৩০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আজিমুশ্বান ইজতেমা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আঞ্জুমান ঢাকা মহানগরের আমির মুফতি সাইফুল ইসলাম ফারুকীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, দেওভোগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, দিলুরোড মাদরাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, যাদুরচর মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী এবং মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী।
রিপোর্টারের নাম 
























