এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, যিনি পর্দায় সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করেছেন, তার শিল্পীসত্তার আরেকটি নীরব অধ্যায় লুকিয়ে আছে সুরের ভুবনে। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সেই পুরোনো টান, সেই সুরের আহ্বান আজও তাকে টানে।
রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় কচিকাঁচার মেলায় ছোটবেলায় গান, নাচ ও আবৃত্তির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। সেখান থেকেই মূলত মিডিয়ায় কাজ করার প্রতি তার আগ্রহের বীজ রোপিত হয়। শিক্ষাজীবনও ছিল সুসংগঠিত; তিনি পুরান ঢাকার ‘মনিজা রহমান গার্লস হাইস্কুল’ থেকে শুরু করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন।
অভিনয় জগতে তার পরিচিতি আসে ‘মোহর আলী’ ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান মজবুত করেন। কলকাতার একটি প্রযোজনায় নির্মিত ‘হঠাৎ দেখা’ ছিল তার প্রথম চলচ্চিত্র, তবে এরপর আর তাকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি।
যদিও অভিনয়ই তার মূল পরিচয়, তবু সংগীত তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছোটবেলায় কচিকাঁচার মেলা ও ছায়ানটে গান শেখার মাধ্যমে সংগীতচর্চার ভিত্তি তৈরি হয়। সাধনা মিত্রের কাছে তার গানে হাতেখড়ি হয়, যিনি প্রথম তার কণ্ঠের সম্ভাবনা অনুধাবন করেন। পরবর্তী সময়ে ফেরদৌস আরার কাছে তালিম নিয়ে প্রায় ছয়-সাত বছর সংগীতচর্চা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত গায়িকা নয়, অভিনেত্রী হিসেবেই ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও গান থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি হিমি। বরং নিজের অভিনীত ‘পরান পাখি’ নাটকের জন্য গাওয়া একই শিরোনামের মৌলিক গান দিয়ে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ান। এরপর ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে ‘তুমি আমায় ভালোবেসো’ শিরোনামের গান পরিবেশন করেন। সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত ‘দুজন দুজনার’ গানটিও দর্শক-শ্রোতার সাড়া পায়।
মাত্র তিনটি মৌলিক গানেই তিনি প্রমাণ করেছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও তার আলাদা সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যস্ত শুটিং সূচির ফাঁকেও সুযোগ পেলে হারমোনিয়াম নিয়ে বসে পড়েন হিমি। নিজের মতো করে ফিরে যান সেই সুরের কাছে, যেখান থেকে তার শিল্পীসত্তার শুরু। হিমি বলেন, ‘যেহেতু ছোটবেলায় গান শিখেছি, তাই গানের প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে। সময়-সুযোগ পেলে এখনো হারমোনিয়াম নিয়ে বসে পড়ি, গানের চর্চা করি।’
রিপোর্টারের নাম 
























