কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা। আধুনিকায়নের নামে যারা এই শিক্ষাকে পরিমার্জন করতে চায়, তারা মূলত একে একটি সনদসর্বস্ব শিক্ষায় পরিণত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও দেওনার পীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি কওমি সনদের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কওমি শিক্ষা থেকে হাফেজ আলেমগণের বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানে বিশাল সুযোগ রয়েছে, যা অন্য কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় নেই। দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স কওমি হাফেজ আলেমগণের দ্বারা অর্জিত হয়। তাই কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা অপরিহার্য।
শনিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দেওনা দাওয়াতুল হক মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
দেওনার পীর আরও বলেন, কওমি শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বীকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কওমি শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, নবী-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনচরিত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত। এসব বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং তা ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। বক্তারা কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষার প্রসারের স্বার্থে সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ সংশোধনেরও দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের সাবেক মন্ত্রী আওলাদে রাসূল মাওলানা মাসউদ মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শিব্বির আহমদ রশিদ (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল বাসেত খান (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজওয়ান রফিকী, মাওলানা আলী আজম (বি,বাড়িয়া), মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, মাওলানা দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ, এডভোকেট মতিউর রহমান ও মুফতি ইমরনুল বারী সিরাজী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী ও মুফতি নজরুল ইসলাম।
রিপোর্টারের নাম 
























