ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

উচ্চশিক্ষার সংকট: বিস্তার বনাম গুণগত অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে এক গভীর কাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি। গত কয়েক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ১৭১টিতে (৫৫টি পাবলিক ও ১১৬টি বেসরকারি) পৌঁছালেও শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান না পাওয়া কেবল পরিকাঠামোর অভাব নয়, বরং শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা, গবেষণার দুর্বলতা এবং পেশাগত অনিয়মের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বাজেটের এক শতাংশের কম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র হওয়ার বদলে কেবল তথ্যভিত্তিক সনদ প্রদানের কারখানায় পরিণত হচ্ছে।

এই সংকটের অন্যতম প্রধান দিক হলো শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও দায়বদ্ধতার অভাব। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষক ঢাকাকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ায় নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক সহায়তায় বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়া এবং ভয়াবহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত শিক্ষার পরিবেশকে আরও যান্ত্রিক করে তুলছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন চিন্তা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি অদক্ষ প্রজন্ম তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সংকট উত্তরণে বিশেষজ্ঞগণ একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। মেধাভিত্তিক স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জবাবদিহি আনতে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত একাডেমিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা জরুরি। এখনই সাহসী সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরিচয় না দিলে উচ্চশিক্ষা তার কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা হারাবে এবং জাতি প্রকৃত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অনেক পিছিয়ে পড়বে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ সংকটের প্রভাব পানামা খালে: যাতায়াত ফি বেড়ে ৪০ লাখ ডলার

উচ্চশিক্ষার সংকট: বিস্তার বনাম গুণগত অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

আপডেট সময় : ১১:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে এক গভীর কাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি। গত কয়েক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ১৭১টিতে (৫৫টি পাবলিক ও ১১৬টি বেসরকারি) পৌঁছালেও শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান না পাওয়া কেবল পরিকাঠামোর অভাব নয়, বরং শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা, গবেষণার দুর্বলতা এবং পেশাগত অনিয়মের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বাজেটের এক শতাংশের কম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র হওয়ার বদলে কেবল তথ্যভিত্তিক সনদ প্রদানের কারখানায় পরিণত হচ্ছে।

এই সংকটের অন্যতম প্রধান দিক হলো শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও দায়বদ্ধতার অভাব। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষক ঢাকাকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ায় নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক সহায়তায় বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়া এবং ভয়াবহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত শিক্ষার পরিবেশকে আরও যান্ত্রিক করে তুলছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন চিন্তা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি অদক্ষ প্রজন্ম তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সংকট উত্তরণে বিশেষজ্ঞগণ একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। মেধাভিত্তিক স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জবাবদিহি আনতে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত একাডেমিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা জরুরি। এখনই সাহসী সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরিচয় না দিলে উচ্চশিক্ষা তার কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা হারাবে এবং জাতি প্রকৃত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অনেক পিছিয়ে পড়বে।