সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য এক লাফে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজার পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমান সভ্যতার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বা ঘাটতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করে, যা এখন স্পষ্ট। এই মূল্যবৃদ্ধিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন।
অন্যদিকে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়া এবং ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ বিবেচনায় সরকার জনগণের কষ্টের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে সামান্য দাম বাড়িয়েছে। তবে মন্ত্রীর এই মন্তব্য যেমন সহজে আশ্বস্ত হওয়ার মতো নয়, তেমনি এটি কেবল অস্থিরতার বিষয়ও নয়; বরং এ বিষয়ে একটি বাস্তবধর্মী ও গভীর আলোচনা হওয়া আবশ্যক।
ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নানা মন্তব্য লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ কেউ এক লাফে এত মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অসভ্য দেশ’ হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেছেন। আবার অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এই মূল্যবৃদ্ধি মজুতদারদের জন্য ‘সোনায় সোহাগা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না। এই বিষয়টিও গভীরভাবে ভেবে দেখার মতো। হয়তো কিছুদিন আগে যারা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করেছিল, তারা রাতারাতি বিপুল মুনাফা অর্জন করে ফেলেছে।
বর্তমান এই তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট ১৯৭৩ সালের সেই ঐতিহাসিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় আরব-ইসরাইল যুদ্ধকালে ইসরাইলকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো অর্থাৎ ওপেক সরাসরি তেল অবরোধ শুরু করে। এর ফলস্বরূপ তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার থেকে লাফিয়ে ১২ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই অবরোধের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। উল্লেখ্য, ’৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল রমজান মাসে। ঠিক এর ৫০ বছর পর, এবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে সেই একই রমজান মাসে – যা এক অদ্ভুত মিলের ইঙ্গিত দেয়। সংকটও একই রকম, কিংবা আরও বেশি তীব্র। তখন ইসরাইলের মূল মদতদাতা ছিল আমেরিকা, এবং এবারও সেই আমেরিকাই।
তবে এবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা ’৭৩ সালের সংকটের চেয়েও অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সে সময়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রভাবিত হয়েছিল, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরও মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। এটি কেবল তেলের সংকট নয়, বরং জনমনে আস্থার এক গভীর সংকটও তৈরি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























